Wednesday, September 30, 2015

মেসি নেই, ‘লন্ডভন্ডস্কি’(!) দেখার দরকারই নেই, টিভি-কর্তা যে ইংরেজিতে দড়!

লেওয়ানডোস্কি যখন ‘লন্ডভন্ডস্কি’, ভারতের টিভিতে তখন ইংরেজ ক্লাবের স্তুতি!

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

সমীকরণ সহজ। লিওনেল মেসি আর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো থাকলে কিছু করার নেই। খেলা সরাসরি দেখাতেই হবে। যদি না-থাকেন ওই দুজন? ইংরেজ ক্লাবগুলোর অসহ্য ফুটবল প্রোমোট করো! বার্সেলোনা, রেয়াল মাদ্রিদকে ঠেলে দাও এইচডি-তে। কম মানুষ দেখবে। যত কম মানুষ দেখার সুযোগ পাবে উন্নততর দলগুলোর খেলা তত বেশি করে বোঝানো যাবে ইংরেজ ফুটবলের মাহাত্ম্য! সোজা বাংলায়, বেচা সহজ হবে তখন। সুতরাং, দেখিও না। দেখালেও এইচডি-তে।
ইএসপিএন সাফল্যের সঙ্গে এই কাজটা করে গিয়েছিল ভারত ও এশিয়ার বাজারে। এমনও দিন গিয়েছে যখন মেসি খেলা সত্ত্বেও বার্সেলোনার খেলা না দেখিয়ে দুই চ্যানেলেই ইংরেজ ক্লাবের ফুটবল দেখতে বাধ্য করা হয়েছিল। তখন অন্য কোনও ‘অপশন’ থাকত না। যে কোনও একটা দেখতেই হত, দেখতে দেখতে সহজেই ঘুমিয়েও পড়া যেত। যে কোনও সময় চোখ খুলুন, খেলার ছিরিছাঁদে তো কোনও তফাত নেই! ক্ষতি ছিল না ম্যাচ চলাকালীন চোখ আর না-খুললেও। ম্যাচ শেষে ইন্টারনেটে গোলগুলো দেখে নিলেই যথেষ্ট।
চেষ্টাটা এখন ধরে রেখেছে টেন স্পোর্টস কর্তৃপক্ষও। ইএসপিএন-কে দেখেই যাদের এশিয়ার বাজার ধরতে-আসা। তাই একেবারে ‘কপি-পেস্ট’। বায়ার্ন মিউনিখের খেলা আছে, বার্সেলোনার খেলা আছে। এইচডি ছাড়া যে দুটি চ্যানেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলা দেখতে পারেন সাধারণ মানুষ, যারা শুধুই ফুটবল দেখার জন্য এইচডি চ্যানেল নেওয়ার বিলাসিতা করতে পারেন না, ওই দুই দলের খেলা দেখতে পাচ্ছেন না। তাঁরা দেখতে বাধ্য আর্সেনাল ও চেলসির খেলা, চ্যানেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। যে ডিনামো জাগ্রেবের কাছে আর্সেনাল হেরেছিল, বায়ার্ন মিউনিখ তাদের আধঘন্টার মধ্যে এক গন্ডা গোল দিয়ে দিলে কী হবে, ইংরেজ ক্লাবের স্বার্থ যে দেখতেই হবে, এশিয়ার বাজারে করে খেতে হলে। সুতরাং, আপনি দেখুন অক্সলেড-চেম্বারলিনকে আর ওদিকে গোলের পর গোল করে চলুন ‘লন্ডভন্ডস্কি’!

সুতরাং, বাড়ির বা মোবাইলে ইন্টারনেট কানেকশনের ‘স্পিড’ ভরসা, ‘জীবন্ত’ ম্যাচ দেখতে। আর ‘লাইভ স্ট্রিম’ শব্দবন্ধ যদি আপনার না-জানা থাকে? কলম্বিয়ার দাভিদ ওসপিনার গোল-খাওয়া দেখুন, কর্নারকে কী করে আত্মঘাতী গোল বানিয়ে ফেলতে হয়, আর মেহনতি উচ্চারণে দাভিদ-কে ডেভিড শুনতে থাকুন, গুড লাক!
Post a Comment