Showing posts with label Manchester City vs Real Madrid. Show all posts
Showing posts with label Manchester City vs Real Madrid. Show all posts

Tuesday, April 26, 2016

রেয়াল মাদ্রিদ অনেক এগিয়ে, নিঃসন্দেহে



কাশীনাথ ভট্টাচার্য

ম্যাঞ্চেস্টার শহরের যে-দিকটা ‘লাল’, মেতে রয়েছে এফএ কাপ ফাইনাল নিয়ে। আর, শহরের যে দিকে ‘নীল’ রঙের প্রাধান্য, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাকাতে চাইছে ইউরোপ মহাদেশের বৃহত্তর ছবিটার দিকে!

কিছু দিন আগেও ছবিটা ঠিক উল্টো ছিল ম্যাঞ্চেস্টারের দুই ক্লাবে। সময় বদলেছে, পাল্টেছে দুই দল, পরিবর্তন এসেছে দুই ক্লাবের সাফল্যের লেখচিত্রে। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ছাড়পত্র জোগাড় করতেই হিমশিম। শহর-শত্রু ম্যাঞ্চেস্টার সিটি দৌড়চ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বুকে নিয়ে!

সেই স্বপ্ন আর সান সিরোয় ফাইনালের মাঝে আপাতত এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্যতম ফেভারিট ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর রেয়াল মাদ্রিদ। নিজে যখন ‘লাল’ দলে ছিলেন, রোনালদো বহুবার এসেছেন খেলতে, ‘নীল’ দিকে। অধিকাংশ সময়ই জিততেন। শুধু, ভুলে যাওয়ার মতো দুটি ঘটনা ছিল তাঁর, নীল-দিকে এসে। ২০০৪ আর ২০০৮, দু-বার দেখেছিলেন লাল কার্ড। কিন্তু পর্তুগিজ তারকা এখন আরও পরিণত। জানেন, বছর শেষে ফিফার বালন দি’ওর মঞ্চে উঠতে শুধু নয়, হাতে ট্রফি তুলতে গেলে, লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে আগামী তিন ম্যাচে (দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল) জয়ের দিকেই!

সিটির স্বপ্ন-দেখানো তারকার অতীত-ইতিহাস অবশ্য বেশ খারাপ। সের্খিও আগেরো আগে ছিলেন আতলেতিকো মাদ্রিদে। যতবার খেলেছিলেন রেয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে, একবারও জেতেননি! তিন বছর আগে যখন একই গ্রুপে ছিল রেয়াল আর ম্যান সিটি, ঘরের মাঠে ১-১ রেখেছিল রোবের্তো মানচিনির সিটি। কিন্তু, বের্নাবেউ-তে গিয়ে হারতে হয়েছিল ১-৪। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলের আশা, এবারও তেমনই হবে। হয়ত, এতিহাদে এসেও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় তুলে নিয়েই ফিরবেন জিনেদিন জিদান। বেলজিয়ামের কেভিন দে ব্রুইন-কে নিয়ে যদিও সামান্য চিন্তা থাকবেই। তরুণ প্রতিভা যতবার খেলেছেন সিটির হয়ে, নিরাশ করেননি।


ঘরের মাঠে সিটির সম্ভাব্য হারের পেছনে কারণ হিসাবে উঠে আসছে দুর্বল রক্ষণ। কোম্পানির চোট, মাঝমাঠে ইয়াইয়া তোরেও নেই। বিবিসি বা বেনজেমা-বেল-ক্রিস্তিয়ানোর ঝড় সামলাতে কি ওতামেন্দি-মঙ্গলার ডিপ ডিফেন্স তৈরি? প্রিমিয়ার লিগের দলের আক্রমণ আর রেয়াল মাদ্রিদের আক্রমণে তফাৎ প্রচুর। দক্ষিণ আমেরিকার দুই দলের এমন কিছু ফুটবলার মানু্য়েল পেয়েগ্রিনির দলে, বড় আসরে যাঁরা কিছুই জেতেননি। শুনতে খারাপ হলেও তা সত্যি, আগেরো-ওতামেন্দির আর্জেন্তিনা বা ফের্নান্দো-ফের্নান্দিনিওর ব্রাজিলের ক্ষেত্রে। ফুটবলারদের ‘জাত’ নিয়ে বিচারে বসলে রেয়াল মাদ্রিদ অনেকটাই এগিয়ে, নিঃসন্দেহে।

তবুও, ফুটবল মানে খাতা-কলমের বিচার নয়। সেই দিন, নির্ধারিত ৯০ মিনিট, কারা কেমন ছন্দে, ঠিক করে দেয় ফল। পেয়েগ্রেনির যেমন মনে হচ্ছে, রোনালদোকে আটকানো সম্ভব। তিনি তখন রেয়ালে, রোনালদোকে আনা হয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড থেকে। ‘একা রোনালদোকে নিয়ে ভাবলে তো আর চলবে না। বাকিদেরও দেখতে হবে। আমাদের সুবিধে, দলটা ছন্দে আছে। প্রিমিয়ার লিগে শেষ পাঁচ ম্যাচে চারটি জিতেছি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি-র মতো দলকে হারিয়ে উঠে এসেছি সেমিফাইনালে। বড় দল মানে ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি ইউরোপের নকআউটেও শেষ দিক পর্যন্ত টিকে থাকা। সিটি প্রথম খেলবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে। জিততে পারলে তো নতুন ইতিহাস!’

সবচেয়ে বেশি ২৭ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে-ওঠা রেয়াল মাদ্রিদও তো নতুন ছন্দে, কোচের আসনে জিদানকে পেয়ে! শেষ দশটা ম্যাচে হার বলতে একমাত্র উলফসবুর্গের কাছে, অ্যাওয়ে ম্যাচে। সেই ০-২ ব্যবধানও নিজেদের মাঠে রোনালদোর হ্যাটট্রিকে পেরিয়ে প্রথম চারে। হ্যাঁ, শেষ ছ’বছর ধরেই রোনালদোরা সেমিফাইনালে এলেও জিতেছিলেন একবার, তথ্য হিসাবে যা খুব স্বস্তি দিচ্ছে না হয়ত। জিদান অবশ্য খুশি অন্য কারণে। ‘কঠিন ম্যাচ হবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল মানেই কঠিন। শুধু ভাল লাগছে ভাবতে যে, দ্বিতীয় পর্ব আমরা খেলব নিজেদের মাঠে। তাই ইতিবাচক থাকতে বলেছি সবাইকে। সহজ ম্যাচ? উলফসবুর্গ ম্যাচের আগেও একই কথা বলা হয়েছিল, ফলটা আশা করি মনে আছে সবার!’ ঠিক, কিন্তু, ১৮০ মিনিট মিলিয়ে রেয়াল বিদায় নিচ্ছে, এই ছবিটা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না!



১০ ম্যাচে ১৬ গোল, আর একটা করলে ইউরোপে এক মরশুমে নিজের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলার সুযোগ। আজ এতিহাদে পারলে আরও একটু এগিয়েই যেতে চাইবেন রোনালদো!