Showing posts with label Sourav Ganguly. Show all posts
Showing posts with label Sourav Ganguly. Show all posts

Tuesday, July 8, 2025

কাশীনাথ ভট্টাচার্য / ‘সোজা মানুষ নও’!

 এঁকেছিলেন দেবব্রত ঘোষ

তাই তো দেশের, এমনকি রাজ্যের মানুষও চিনতে পারে না সৌরভ গাঙ্গুলিকে, অনাবশ্যক বিতর্ক খোঁজে, সোনা ফেলে দিয়ে...

‘তুমি তো আমাদের মতো সোজা মানুষ নও’।

পথের দাবী–র নায়কের উদ্দেশে লিখেছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সময়, পরিপ্রেক্ষিত একবারে আলাদা। কিন্তু, আজকের নায়কের জন্যও প্রাসঙ্গিকতায় একশোয় একশো। ‘তাই তো দেশের খেয়াতরী তোমায় বহিতে পারে না!’

তর্ক অনেক রকম, বিতর্ক সবার জন্য নয়। বিতর্কের অাঁচে পুড়ে প্রতিভার সোনা আরও খাঁটি হয়। অনেকে বিতর্ককে এত গুরুত্ব দেন যে বিতর্ক থেকে দূরে সরে–‌থাকাকেই জীবনের উদ্দেশ্য মেনে নেন। স্বাভাবিকতা ব্যাহত হয় তাতে, মন খুলে কথা বলারও জো থাকে না, কারণ, কোথায় কীভাবে বিতর্কের ফাঁদ পেতে রেখেছে ভুবন, তাঁরা সন্দিহান। আমাদের মতো একেবারে সাধারণ, পিএফ–গ্র‌্যাচুইটি নির্ভর জীবন। একটু এপাশ–ওপাশ হওয়ার জো নেই। যদি ‘বস্‌’ মানে ‘জনতা’ চটে যায় বা কর্তার মনে ব্যথা দিয়ে ফেলেন। তাঁদের পিএফ–গ্র‌্যাচুইটি তাঁদের অর্জিত খ্যাতি যাতে বিতর্কের দাগের লেশ নেই। এবং তেমন না–হওয়াই না কি আদর্শ!

সৌরভ গাঙ্গুলিকে তেমন অ–স্বাভাবিক হতে হবে, এমন মাথার দিব্যি কেউ দেয়নি, দিলেও তাঁর তাতে ‘থোড়াই কেয়ার’। তিনি কাজ করতে এসেছিলেন, কাজ করেছেন। কে কী ভাবল বা বলল, বয়েই গেল। তাই তিনি মনুষ্যোচিত, কুলুঙ্গিস্থিত নন। তাঁর সম্পর্কে শুধুই ভাল–ভাল কথা প্রচারিত হবে, এমন দাবিতে তিনি কখনও সোচ্চার নন। সমালোচিত হওয়ার ভয়ে তিনি পিছিয়ে আসেননি কখনও, দলের ভালর জন্য নিজে নির্বাসিত হতেও দ্বিধা করেননি। আর, বিশ্বের সেরা অধিনায়কদের বিশ্ব দেখছে, নিজের নির্বাসন রুখতে টেস্টজয়ের সঙ্গে সঙ্গেই সিরিজে সমতা ফেরানোর সম্ভাবনাকেও বলি দিতে। নিজের অর্জিত খ্যাতিতে নির্বাসনের কালো দাগ লাগানোয় কী তীব্র অনীহা তাঁদের!‌ দলের আগে নিজেকে স্থাপনের প্রচেষ্টাও এত পরিষ্কার হয়ে ধরা দেয়নি কখনও সাধারণের চোখে। তাই, সৌরভের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য এত বিরাট হয়ে দাঁড়ায়, শেষ বিচারে।


তাঁর কাজে বাধা এলে নিজে সরিয়ে দিতেন। তাঁর ভাবনা অনুযায়ী কেউ চলতে না–চাইলে তাঁকে বুঝিয়ে–সুঝিয়ে শেষে বাধ্যই করতেন তাঁর ভাবনা মেনে চলতে। রাহুল দ্রাবিড়কেই ভাবুন। উইকেটরক্ষক করেছিলেন, গোটা ২০০৩ বিশ্বকাপ জুড়ে ‘ওঠবোস্‌’ করিয়ে ছিলেন বলে নিজে অধিনায়ক হয়ে প্রথম সুযোগেই ছেঁটে ফেলেছিলেন সৌরভকে। অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে সৌরভ সম্পর্কে নিজের মনোভাব পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিতেও ছাড়েননি। তাঁকে সৌরভ ওপেনার করলেই অফস্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে চলে–আসা আর পাকিস্তানে প্রথমে সৌরভকে শুরুতেই শোয়েবদের মুখে ছেড়ে দেবেন বলে ওপেনার হওয়ার প্রস্তাব এবং পরে উইকেটের চরিত্র দেখে ‘সৌরভ নেমে রান করে দিলে আর কখনও বাদ দেওয়া যাবে না’ ভেবে নিজে নেমে শেহবাগের সঙ্গে পঙ্কজ রায়–ভিনু মানকড়ের রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে–যাওয়া — এমন বিদ্যাসাগরী ‘সুবোধ’ ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা অনেক দিন ধরেই দেখেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটে এমন মানসিকতারই জয়জয়কার, যা শুধু নিজেদের দিকে তাকাতে বলে, তাকাতে বলে নিজের অঞ্চলের দিকে। এই দুই–এর বাইরে দৃষ্টি দেওয়া মানেই ভারতীয় ক্রিকেট–কর্তাদের চক্ষুশূল। রাহুল তাকাননি, তাঁর ঠিক আগের জন ছাড়া আগেও আর কখনও কেউ তাকাতেই চাননি এই দিকে। ‘বৃহত্তর পরিমণ্ডল’, ‘বৃহত্তর স্বার্থ’, তাঁদের কথায় এসেছিল আরও অনেক রকমে, সেই সব বাক্যের স্থান ইংরেজি মিডিয়ার ইতিহাসে উজ্জ্বল। কিন্তু, কাজে কখনও করে দেখাননি কেউ। সৌরভ করতে গিয়েছিলেন বলেই সমস্যা এবং বিতর্ক।

তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন। তিনি দলে এলেন, প্রশ্ন। তিনি সেঞ্চুরি করলেন, প্রশ্ন। তিনি দলে থাকলেন, প্রশ্ন। তিনি অধিনায়ক হলেন, প্রশ্ন। তিনি সেরা অধিনায়ক হলেন, তা–ও প্রশ্ন। তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে তুললেন, প্রশ্ন। তিনি যুবরাজ সিংকে পছন্দ করেন, প্রশ্ন। তিনি জাহির খানকে দলে রাখতে চান, প্রশ্ন। তিনি হরভজন সিংকে ভারতের সেরা অফস্পিনার ভাবেন, প্রশ্ন। তিনি অনিল কুম্বলেকে ভারতের সর্বকালের সেরা ম্যাচ–জেতানো বোলারের সম্মান দেন, প্রশ্ন। তিনি সেঞ্চুরি করেন, দল বিদেশে টেস্ট সিরিজ জেতে, প্রশ্ন। সেই তিনি জামা ঘোরালে বা অস্ট্রেলিয়াকেও অন্যান্য দেশের মতো দেখেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নন, প্রশ্ন। তিনি দলে থাকবেন কেন, প্রশ্ন। কার জায়গায় দলে আসবেন, প্রশ্ন। কেন খেলে যাবেন, প্রশ্ন। এমনকি, এখন যখন অবসর নিয়ে ফেলেছেন তখনও প্রশ্ন!

এবং সেই সব প্রশ্ন তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমরা বাঙালিরাও একেবারে সামনের সারিতেই, বরাবর। তাঁর ক্রিকেটীয় দক্ষতায় আমাদেরই কখনও বিশ্বাস ছিল না, তাই বারবার আমরা বলে এসেছি, তাঁকে ‘দলে–ঢোকানো’ হয়েছে, তাঁকে নেতৃত্ব ‘পাইয়ে–দেওয়া’ হয়েছে, তাঁর দক্ষতা বিন্দুমাত্রও ছিল না, কেউ কেউ ছিলেন বলেই তিনি খেলে যেতে এবং নেতৃত্ব দিয়ে যেতে পেরেছিলেন এত দিন ধরে।

আর কৃতজ্ঞতারও তো শেষ নেই, কতজনের কাছে যে সারা জীবন ধরে কৃতজ্ঞ থেকেই যেতে হবে সৌরভকে, সেই তালিকাও অন্তহীন। একবার চোখ বুলিয়ে নিন —

টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য চিরকৃতজ্ঞ জগমোহন ডালমিয়ার কাছে।

টেস্টের প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞ নভজ্যোৎ সিং সিধুর কাছে। এবং, সেই একই কারণে কৃতজ্ঞ অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন এবং কোচ সন্দীপ পাটিলের কাছে। কেন? প্যাড পরে বসেছিলেন সিধু। হেঁ হেঁ করে হেসে পাটিল জানতে চেয়েছিলেন আজহারের কাছে, সর্দারটা এমন বুদ্ধু যে টিম–লিস্টও দেখে না? অসমর্থিত সেই গল্পের প্রত্যক্ষ প্রভাব, অপমানিত সর্দার প্যাড খুলে সাজঘর থেকে বেরিয়ে হোটেল হয়ে সোজা বিমানবন্দরে এবং বিমান ধরে ভারতে! জায়গা খালি ভারতের মিডল–অর্ডারে, সুতরাং, সফরে আগের ম্যাচগুলোয় মোটামুটি রান–পাওয়া সৌরভের জায়গা হল। কৃতজ্ঞ থাকবেন না পাটিল এবং আজহারের কাছে? এ আবার কেমন কথা!


সেই আজহারের কাছেই কৃতজ্ঞ থাকতে হবে, তিন নম্বরে তাঁকে পাঠানোর জন্যও! শতরান পেয়েছিলেন, কিন্তু, আজহারের আগে বাংলার অধিনায়কও যে তাঁকে কখনও তিনে পাঠাননি! আসলে যে, তিনে পাঠিয়ে ব্যর্থ হলেই আবার ছুড়ে ফেলে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই তাঁকে পাঠানো হয়েছিল ব্যাটিং–অর্ডারে অত ওপরে, তাতে কী এসে গেল? পাঠিয়ে তো ছিলেন আজহার! তাই, কৃতজ্ঞ থাকবেন না?

চোট পেলেন শ্রীনাথের স্ট্রেট–ড্রাইভে, নেটে বল করার সময়। বাইরে দলের। ফিরে এসে দেখলেন, যে তিন নম্বরে তাঁর জায়গা নিয়ে কোনও কথা হওয়ার জায়গাই ছিল না, সেখানে দক্ষিণী এক ব্যাটসম্যানকে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং পারফর্ম না–করা সত্ত্বেও তাঁকেই রেখে দেওয়া হচ্ছে সেখানে, আর সৌরভকে ব্যাট করতে নামতে হচ্ছে পাঁচ বা ছয়ে। ওই তিন নম্বরে খেললে তাঁর টেকনিকের খুঁতাবলী জনসমক্ষে আরও বেশি করে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া থেকে সমালোচকদের বঞ্চিত করার জন্যও কি আজহারের কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ছিল না সৌরভের?

শচীন তেন্ডুলকারের কাছে এমনিতেই অনেক কৃতজ্ঞতা। কিন্তু, পরপর পাঁচটা টেস্ট হেরে শচীন যদি বীতশ্রদ্ধ না–হয়ে দায়িত্ব না–ছাড়তেন, কী করে সৌরভ আসতেন নেতৃত্বে? শচীনকে এই সিদ্ধান্ত নিতে যাঁরা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন তাঁদের মধ্যেও শীর্ষে থাকবে আজহারেরই নাম। আর, ম্যাচ–গড়াপেটা বিতর্ক। ওই বিতর্ক না–থাকলে শচীনের ভারত টানা পাঁচ টেস্ট হারত না, শচীনও দায়িত্ব ছাড়তেন না, সৌরভও পেতেন না ভারতের অধিনায়কত্ব। তাই, ম্যাচ–গড়াপেটা বিতর্কের প্রতিও চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত সৌরভের, বিশেষত আজহারের কাছে, তাই না?

যেমন বাঙালির আরও এক প্রিয় বিষয়, সৌরভের নেতৃত্ব এত ভাল হয়ে দেখাত না রাহুল–শচীন–হরভজন–কুম্বলে–লক্ষ্মণরা এত ভাল যদি না–খেলতেন। সোজা বাংলায়, সৌরভের কোনও কৃতিত্বই নেই, নেহাত ওঁরা ভাল খেলেছিলেন বলেই নেতা সৌরভের রেকর্ড এত ভাল! মার্শাল–হোল্ডিং–গারনার–রবার্টসরা ছিলেন বল হাতে, ব্যাট হাতে রিচার্ডস–গ্রিনিজ–হেনেস–লয়েড, উইকেটের পেছনে ডুজন, এমন দল সফল হলে লয়েডের কৃতিত্ব আর এমন কী? ম্যাকগ্রাথ–ওয়ার্নের হাতে সমস্যায় পড়লেই বল তুলে দাও, হেডেন–ল্যাঙ্গার–পন্টিং–মার্ক ওয়া–ড্যামিয়েন মার্টিন–গিলক্রিস্ট আছেন দলে, স্টিভের আর কৃতিত্ব কী? দুর্ভাগ্যবশত, এই কথাগুলো লয়েড সম্পর্কে কখনও কখনও বলা হলেও স্টিভ সম্পর্কে কোনও দিনই বলা হয় না! লয়েডেরও চামড়ার রঙ কালো, স্টিভ শ্বেতাঙ্গ সমাজের প্রতিভূ, ওঁর সম্পর্কে কিছুই বলা যাবে না কখনও! কিন্তু, সৌরভের আবার কৃতিত্ব কীসের, বাকিদেরই কৃতিত্ব ওঁর মতো চির–অনুপযুক্ত অধিনায়ককে এমন ‘নেতৃত্বের জন্যই জন্ম’ মনে–হওয়ার পেছনে, বাঙালি খুব ভাল করে জানে!

যেমন গ্রেগ চ্যাপেল–কিরণ মোরে–রাহুল দ্রাবিড় ত্রিভুজ। ওই ত্রিভুজই বাদ দিয়েছিল বিদেশে সিরিজ জিতে–আসা অধিনায়ককে। এক বছর আবার আবর্জনায়। সেখান থেকে ফিরলেন, সবার প্রত্যাশার সীমানা ছাড়িয়ে। এমন ফিরলেন, ফিরে–আসার পর তাঁর থেকে সফল আর কেউ নয় — না একদিনের ক্রিকেটে, না টেস্টে। এই সাফল্যের কৃতিত্ব তা হলে কার? অবশ্যই গ্রেগ চ্যাপেলের, অবশ্যই মোরের, অবশ্যই দ্রাবিড়ের — তাই না? সৌরভের এই ন্যূনতম সৌজন্যবোধটুকুও নেই, প্রশ্ন উঠল, উঠছে, উঠবে! থাকলে, সবার আগে গ্রেগের ওই শ্বেতরঙা শ্রীচরণে মাথা নুইয়ে এই সাফল্য তাঁকে উৎসর্গ করতেন না? গ্রেগ না–থাকলে এই সৌরভ কোথায়? ঠিক যেমন, ডালমিয়া না–থাকলে এই সৌরভ কোথায়!

লোভ সামলানো কঠিন। চলুন, সেই শরৎচন্দ্রের কাছেই হাত পাতি আমরা, সব্যসাচী সম্পর্কে যেখানে লিখেছিলেন —

‘তুমি দেশের জন্য সমস্ত দিয়াছ, তাই তো দেশের খেয়াতরী তোমায় বহিতে পারে না, সাঁতার দিয়া তোমাকে পদ্মা পার হইতে হয়; তাই তো দেশের রাজপথ তোমার কাছে রুদ্ধ, দুর্গম পাহাড়–পর্বত তোমাকে ডিঙাইয়া চলিতে হয়; — কোন্‌ বিস্তৃত অতীতে তোমারি জন্য তো প্রথম শৃঙ্খল রচিত হইয়াছিল, কারাগার সে তো শুধু তোমাকে মনে করিয়াই প্রথম নির্মিত হইয়াছিল — সেই তো তোমার গৌরব। তোমাকে অবহেলা করিবে সাধ্য কার! দুঃখের দুঃসহ গুরুভার বহিতে তুমি পারো বলিয়াই তো ভগবান এত বড় বোঝা তোমারই স্কন্ধে অর্পণ করিয়াছেন! মুক্তিপথের অগ্রদূত! পরাধীন দেশের হে রাজবিদ্রোহী! তোমাকে শতকোটি নমস্কার!’

কী বলছেন, শরৎচন্দ্র চিনতেন না সৌরভকে? মানছি না, মানব না!


*‌ প্রকাশিত — খেলা, ১৬ নভেম্বর ২০০৮

** আজ ৮ জুলাই ২০২৫, সৌরভ গাঙ্গুলি ৫৩

Sunday, June 8, 2025

কাশীনাথ ভট্টাচার্য / স্তব্ধতার গান


নয়ের দশকের প্রথমভাগ। ক্রীড়া সাংবাদিক হওয়ার পরীক্ষায় ৫০ নম্বরের প্রশ্ন। বিষয় — টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিন। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দিন শেষে দলের রান চার উইকেটে ১৮২। কোনও ব্যাটসম্যান ৫০ পেরননি। জুটিতেও একবারই সর্বোচ্চ ৫৮। পড়েছে চার উইকেট, বোলারদের কারও পাঁচ উইকেট নেওয়ার প্রশ্নই নেই। সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দে ম্যাচ–রিপোর্ট লিখুন।

জানা হয়নি, প্রশ্নকর্তা ইউপিএসসি–র সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার ‘এসে’ অংশের বিষয় নির্বাচন করে দিতেন কিনা, যেখানে ১২৫ নম্বরের প্রশ্নে হাজার থেকে বারোশো শব্দ লিখতে হত। আসলে, বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করার পর সেই যে বন্ধু–অ্যাসপাইর‌্যান্ট ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় বাংলা থেকে ইংরেজিতে ট্রান্সলেট করার জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত থেকে ‘ভগবান যাহাকে তাঁহার বিচিত্র–সৃষ্টির ঠিক মাঝখানটিতে টান দেয়’ লাইনগুলো হুবহু তুলে দেওয়া হয় জানিয়েছিল, ছিটকে যাওয়া, সভয়। তারই ফলশ্রুতি সাংবাদিক হওয়ার চেষ্টা। কিন্তু, সেখানেও দেখা গেল সমস্যা এক, একই।
সুবিধা, তখন আমাদের পরীক্ষার হলে চেবানোর জন্য কলম থাকত! আজ হলে কীবোর্ড কী করে চর্বণ করতে হয়, শিখে নিতাম হয়তো। তখন দরকার পড়েনি, নিশ্চিন্তে কলম চিবিয়ে উপাদেয় সন্ধানে পেয়ে গিয়েছিলাম সুনীল গাভাসকারকে। প্রায় ১৭ বছর আগে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যিনি ৬০ ওভার ব্যাট করে, ১৭৪ বল খেলে অপরাজিত থেকে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন ৩৬ রান নিয়ে। অস্বাভাবিক ‘স্লো’ ম্যাচ–রিপোর্টে সামান্য গতিসঞ্চার করেছিল স্মৃতিতে মাইক ব্রিয়ারলির উক্তি। ক্রিকেট–পত্রিকায় পড়েছিলাম বোধহয়, আদর্শ ওপেনিং জুটি সম্পর্কে ব্রিয়ারলির ভাষ্য। ‘সানি (গাভাসকার) আর জেফ্রি (বয়কট)। টস জিতে ওদের ব্যাট করতে পাঠাব। দিনের শেষে রান ১২০, বিনা উইকেটে। সানি ৮০ নট আউট, জেফ্রির ২০ আর ২০ রান একস্ট্রা।’ বাকিরা লাঞ্চ করে ম্যাটিনি শো দেখতে চলে যাবে কিনা, বলেননি!


দিনকাল সত্যিই অন্যরকম তখন। স্টিভ ওয়ার অধিনায়ক হতে দেরি আছে। ম্যাথু হেডেন, জাস্টিন ল্যাঙ্গারের ব্যাটে ‘দিনে তিনশো’ থিওরি জন্মায়নি। সৌরভ গাঙ্গুলির মস্তিষ্কেও গান থেকে গুলি ছোটাননি বীরেন্দ্র শেহবাগ। ‘৫০ ওভার মানে ৩০০ বল, প্রতি বলে এক রান করে নিলেই ৩০০, চার–ছয়ের দরকার নেই’, বব উলমারের অমর কৌশলও আসেনি, যা আমূল বদলে দিয়েছিল ক্রিকেট–‌দর্শন। জনতা সাদা পোশাকের নান্দনিকতায় এতটাই বিভোর, দৈনিক ৮৫–‌৯০৫ ওভারে সাত–আটটা চার পেলেই খুশি। একটাও ছয় হলে আলোচনায় উচ্ছ্বাস বাঁধনহারা। কাউন্টি ক্রিকেটের মাঠে মেমসাহেবের উলবোনা আর পোষ্যদের খেলা চলত, টেস্ট দেখতে দর্শক মাঠে আসতেন না, আবারও পাঁচদিনে অমীমাংসিত খেলা দেখতে না–‌চেয়ে।
প্রশ্ন অবশ্য থেকেই গিয়েছিল। খেলা মানে আরও জোরে, আরও দূরে, আরও দ্রুত। সিটিয়াস, অল্টিয়াস, ফর্টিয়াস। সেখানে এমন স্তব্ধতার গান শোনানো কেন? স্বাভাবিকতার সহজাত রাস্তা ছেড়ে পারফেকশনের প্রতিমূর্তি হতে চেয়ে অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে–পড়া কি খেলার প্রাথমিক শর্তের বিরোধিতা নয়?
দিন–মাস–বছর যায়। চোখ থেকে মনে উঠে আসেন আন্দ্রে পিরলো। গতিময়তার সঙ্গে যাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। কার্লো আনচেলোত্তি তাঁর নাম দিলেন ‘রেজিস্তা’। বিপক্ষের আক্রমণ শুষে নেবেন ব্লটিং পেপারের মতো, পেশাদার ফাউলের নোংরামি না করে। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় থাকার সমার্থক হয়ে উঠলেন ইতালীয় পিরলো। এমনকী ভারতের ১০০ মিটার দৌড়ে চ্যাম্পিয়নের থেকেও ‘স্লো’, কিন্তু বিপক্ষ আক্রমণে যখন, চিন্তায় তঁার চেয়ে ‘ফাস্ট’ তো উসাইন বোল্টও নন!‌
এই ভাবনাই গড়ে দেয় তফাৎ। খেলার চূড়ান্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলোর চেয়ে। বিশেষত দলগত খেলায়। সে ফুটবল হোক, হকি, বাস্কেটবল — সর্বত্র। অলিখিত ‘‌ক্যাপ্টেন’‌ থাকেন। তাঁর কাজই গতি কমিয়ে দেওয়া, নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা। ফুটবলে বোঝা সহজ। বলপায়ে বাড়তি কয়েক সেকেন্ড, দেখতে হয়তো অপ্রয়োজনীয়। কিংবা কিছু উদ্দেশ্যহীন পাস, নিজেদের মধ্যে। ‘‌পজেশন’‌ ধরে রাখা নিয়ে আজকের ফুটবলে এত কথা!‌ পেপ গারদিওলার বার্সেলোনা যখন পজেশন–‌নির্ভর প্রেসিং খেলত, আক্রমণ মূল উদ্দেশ্য ছিল। এখন ইওরোপ ক্রমশ আত্মস্থ করে উদ্দেশ্যটা বদলে দিয়েছে নেতি–‌তে — বিপক্ষ যাতে আক্রমণ করতে না–‌পারে!‌ স্বাভাবিক, বল যদি নিজের পায়ে থাকে, বিপক্ষ আক্রমণে আসবে কী করে?‌ তাই মিডল থার্ড অঞ্চলে গারদিওলার সিটি পাসের পর পাস খেলে যার এক ও একমাত্র উদ্দেশ্য বল পা–‌ছাড়া না করা, বিপক্ষকে খেলার সুযোগ না–‌দেওয়া। বহু মাঠেই বিপক্ষের দর্শক বিদ্রুপ করেন। পজেশন ধরে রাখার এই অকারণ পাসিং যা খেলার গতি নষ্ট তো করেই, ব্যহত হয় খেলার উদ্দেশ্যও, যা সবসময় এগিয়ে যেতে বলে। নেতিবাচক না হলেও যা কখনও ইতিবাচক নয়।


আসলে, শাবি এরনানদেজ–‌এর মতো ‘‌শ্লথ’‌ কেউ না থাকলে যে এমন যুগান্তকারী ভাবনাও ‘‌গতি’‌ পায় না!‌ তিনি লিওনেল মেসি নন, একা বলপায়ে দৌড়ে বিপক্ষকে মাটি ধরাবেন না। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাও নন, যাঁর ‘‌অ্যাক্সিলারেশন’‌ বা বলপায়ে হঠাৎ গতি–‌বাড়ানো অতুলনীয়। শাবির গুরুত্ব বেশি, কারণ, মেসি–‌ইনিয়েস্তাদের সেই গতি বা হঠাৎ–‌গতি বাড়ানোর সুযোগ করে দিতেন। বল পেয়ে নিজের অক্ষের চারপাশে তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া, ওই এক সেকেন্ড বা সেকেন্ডের ভগ্নাংশে থমকে যেত ফুটবল। বিপক্ষ যে–‌গতিতে আক্রমণে আসতে চেয়েছিল, যেন ‘‌কমা’‌ পড়ল। যতিচিহ্নের ব্যবহার, ফুটবল–‌মাঠে।‌
খেলার সদাচলমান বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেই সহাবস্থান শ্লথতার, অদ্ভুত বৈপরীত্যে। মানু ভাকেরকে পারি অলিম্পিকে দেখছিলাম, পকেটে বাঁহাত ঢুকিয়ে দাঁড়ালেন। ডানহাতে পিস্তল তুলে আস্তে আস্তে ওঠালেন হাত। ১০ বা ২৫ মিটার দূরে টার্গেট। অদ্ভুত সোজা হাত লক্ষ্যে স্থির হল। কিন্তু, ট্রিগার টানছেন না কেন?‌ অপেক্ষা সেকেন্ড ছাড়িয়ে মিনিটের কাঁটায়। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাধারণত ষাটটা শট নিতে হয় পিস্তল–‌শুটারদের, ৭৫ মিনিটে। ‘‌টাইম প্রেসার’‌। অবাক হয়েই দেখছিলাম, পাশের প্রতিযোগীরা যতক্ষণে কুড়ি–‌বাইশটা ‘‌শট’ নিয়ে ফেলেছেন, মানুর তখন দশ‌–‌এগার। সবচেয়ে বড়, অন্যরা অন্তত পাঁচবার ট্রিগার টেনে ফেলার পর শুরু করতেন মানু!‌ ওই যে হাত–‌সোজা করে দাঁড়িয়ে থাকা, মানুর মতোই থেকে গিয়েছে এই দর্শকের মনেও। তাঁর যত্ন, তাঁর প্রস্তুতি, তাঁর ভালবাসা। ১২–‌১৫ শটের পর পিস্তল হাত থেকে নামিয়ে রেখে পেছনে ফিরে গ্যালারিতে কোচ যশপাল রানাকে খোঁজা, চোখের ইশারায় কথা একটা–‌দুটো। পাশেই ছিলেন যশপাল, দেখছিলাম তাঁকেও, হাতটা বুকের সামনে উঁচু করে অভয় দিয়ে যাচ্ছেন শুধু। সেই হাতের ভাষাকে শব্দ দিলে ‘‌শান্ত হও, আরও শান্ত, লক্ষ্যে স্থির থাকো, ব্যস’। ব্রোঞ্জ পেয়ে মানু এসে বলেছিলেন, রোজ সকালে গীতাপাঠ আবশ্যিক করেছেন তাঁর কোচ, আর যোগাভ্যাস। ‘‌কম্পিটিশন’‌ নয়, যে–‌অভ্যাসে মন শান্ত হয়। যে খেলার যা!‌
মানুর খেলার সঙ্গে না হয় ওতপ্রোত জড়িত মনের শান্তি, শেষে যা নিয়ন্ত্রণ করবে তাঁর হাতের নড়াচড়া। কিন্তু বরিস বেকার?‌ তাঁর তো নামই ছিল ‘‌বুমবুম’‌!‌ খেলতেনও চিরন্তন একাকীত্বের প্রতীক যে–‌খেলা — টেনিস। বেকারকে সার্ভিস করতে দেখেছেন নিশ্চয়ই। মনে না পড়লে ইউটিউবে গিয়ে আবারও দেখতে পারেন। কী অদ্ভুত প্রশান্তি!‌ বলবয়ের হাত থেকে বল পেলেন। দাঁড়ানোটা দেখুন। আম্পায়ার ‘‌সাইলেন্স’ বলেছেন বা বলেননি। বেকার হঠাৎ হারিয়ে গেলেন জগৎসংসার থেকে! মাথা নীচু, কয়েক সেকেন্ড। প্রস্তুতির ওই যত্নটুকু। বাঁহাতে বল তুললেন আকাশে, ডানহাতে উঠল র‌্যাকেট। সংযোগে বলের ছিটকে যাওয়া নেটের ওধারে। প্রতিক্রিয়া তো তারপর, আগের এই প্রক্রিয়া যখন তিনি ‘‌বুমবুম’‌ সত্তাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে নিজেকে নিবিষ্ট করছেন, তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল সর্বকালের সেরাদের তালিকায়। মার্টিনা নাভ্রাতিলোভাকেও দেখেছি, অবিকল একই রকম। ওই এক পলকের একটু দাঁড়ানো, থমকে–‌থাকা। খেলায় সাফল্যের অন্যতম শর্ত।
ধীরতা–‌স্থিরতার এই কমা–‌সেমিকোলনগুলোই খেলার বাক্যকে করে তোলে চূড়ান্ত গতিশীল, যত্ন–‌ভালবাসার যতি–‌তে। যেমন পদ্যের মাঠে শক্তি চট্টোপাধ্যায়।
                                    ** প্রকাশিত, রোববার, সংবাদ প্রতিদিন, ৮ জুন ২০২৫

Wednesday, October 7, 2015

পোস্তিগা ৩-৪ সপ্তাহ নেই শুনে সৌরভ, ‘ভালদো আছে, ভালই খেলবে’

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

মেল-বক্সে আতলেতিকো দে কলকাতার মিডিয়া ম্যানেজারের পাঠানো ‘প্রেস স্টেটমেন্ট’ পৌঁছনোর সময় দেখাচ্ছে ৩-০৮, বিকেল। সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে সিএবি-তে সংবাদমাধ্যম যখন কথা বলল, ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে আটটা ছুঁইছুঁই। কিন্তু, সৌরভ তখনও জানেন না, তাঁর দলের মার্কি ফুটবলার এলদের পোস্তিগা অন্তত ৩-৪ সপ্তাহ বাইরে থাকবেন, চিকিৎসার জন্য ফিরে গিয়েছেন পর্তুগালে!
কী করে বোঝা গেল সৌরভ জানতেন না?
সিএবি-তে তাঁর ঘরের সামনে বারদশেক সৌরভকে সংবাদমাধ্যমের ঘিরে ধরার চেষ্টার পর অবশেষে যখন ধরা দিলেন সিএবি-র ভাবি সভাপতি, দু-দিন পরের ম্যাচ নিয়ে নয়, আলোচনায় বারবারই উঠে এল আতলেতিকোর ভবিষ্যৎ। প্রথমে যখন শুনলেন পোস্তিগা খেলতে পারবেন না, নিজেই প্রশ্ন করলেন, ‘কত দিনের জন্য বাইরে?’ অর্থাৎ, সিএবি নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, ঘন্টা পাঁচ আগের ঘটনাও তাঁকে জানিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বাভাবিকও। বৃহস্পতিবার যে ইডেনে টি টোয়েন্টি। আর তিনি আয়োজকদের অঘোষিত প্রধান। সোমবার রাতে সিএবি-র অবৈতনিক যুগ্মসচিব পদত্যাগ করেছেন, ১৫ অক্টোবর সিএবি-র সভাপতি হিসেবে উঠে আসবেন বলে। ইডেনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানে তো তিনি কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার ভূমিকাতেই, তাই না? যদিও নিজেই বলছিলেন, ‘সিরিজই তো শেষ’, তাতেও ফুরসত পেলেন কই?
তাই পোস্তিগার খবর সময়মতো পাননি বলে আতলেতিকো নিয়ে উৎসাহ হারিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইলে তা হঠকারিতা। হ্যাঁ, বুধবার এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচেও যেতে পারছেন না গোয়ায়। কী করে যাবেন? পরের দিনই যে ধোনি বনাম ফাফ, তাঁর ঘরের মাঠে!

কিন্তু, পোস্তিগার পর্তুগাল চলে-যাওয়া আর ৩-৪ সপ্তাহ বাইরে থাকার কথা শুনে বিন্দুমাত্র না-ভেবেই বলে দিলেন, ‘ভালদো আছে তো, খেলবে। ভালই খেলেছিল আগের ম্যাচেও।’ এই ভালদো মানে প্রথম ম্যাচে পোস্তিগা চোট পেয়ে উঠে যাওয়ার পর মাঠে-আসা পরিবর্ত ফুটবলার ভালমিরো লোপেজ রোচা। জন্ম স্পেনের ভিয়াব্লিনোতে, রেয়াল মাদ্রিদ, ওসাসুনা, এস্পানিওল, মালাগা ও লেভান্তে-র হয়ে খেলে আসা চৌত্রিশ বছরের উইঙ্গার। স্পেনের সিনিয়র দলের হয়ে খেলার ডাক পাননি। তাই আন্তর্জাতিক আসরে খেলেছিলেন কেপ ভারদে-র হয়ে, মাত্র দুটি ম্যাচে। প্রথম ম্যাচে যিনি করেছিলেন দলের তৃতীয় গোল চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে, তাদের মাঠে।
দ্বিতীয় আইএসএল-এর ফাইনাল ২০ ডিসেম্বর। ৩ অক্টোবর শুরু হয়েছিল মানে, ১১ সপ্তাহের প্রতিযোগিতা। তাতে সপ্তাহ চারেক না-থাকলে কি নতুন করে মার্কি ফুটবলারের জন্য আবেদন জানাবে আতলেতিকো? সৌরভ অবশ্য এই প্রশ্ন পাঠালেন বাউন্ডারির বাইরে। ‘এটা কোচ বুঝবে। আমার এত যোগ্যতাই নেই এ ব্যাপারে কথা বলার! এই সব সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ।’
আতলেতিকোর মালিকের তো আর মাঠে যাওয়াই হচ্ছে না! ‘যাব তো, ১৩ তারিখ। এখন আর কত দিক সামলাব!’
আপাতত তাঁর ব্যস্ততা সিএবি ঘিরেই। ১৩ তারিখ প্রথম হোম-ম্যাচের আগেই ফুটবল-মোডে ঢুকে পড়বেন মহালয়ার দিন ১২ অক্টোবর থেকে। কারণ?

দেবীপক্ষে কলকাতা যে সেই দিনই প্রবেশ করবে পেলেপক্ষে!