Monday, September 28, 2015

পোস্তিগা-বাইচুংয়ের হাত থেকে সেরার পুরস্কার নিলেন লিংদো




কাশীনাথ ভট্টাচার্য

ভারতের বর্ষসেরা ফুটবলার ইউজেনিসন লিংদো। আই এস এল-এ সেরা ভারতীয় ফুটবলারের পুরস্কার পেলেন সন্দেশ ঝিঙ্গন। ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এফপিএআই) আয়োজিত সপ্তম ‘ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস ২০১৫’ অনুষ্ঠানে, রাজারহাট নিউটাউনে, নভোটেল হোটেলে। আর ফুটবলের কাজে আজীবন নিয়োজিত থাকার স্বীকৃতি পেলেন শ্যাম থাপা। পুরস্কার পেয়ে আবেগমথিত শ্যাম থাপা বললেন, ‘কী ভেবে এফপিএআই আমাকে বেছে নিয়েছে জানি না। হয়ত ফুটবল খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর জুনিয়র ফুটবলারদের তুলে আনার কাজ করেছি, এখনও করে চলেছি, সেই জন্যই। আমার একটাই অনুরোধ আই লিগের প্রতিটি ক্লাব ও আইএসএল-এর প্রতিটি ক্লাবের কাছে – সব ক্লাবে থাকুক জুনিয়র ফুটবলারদের তুলে আনার জন্য আকাদেমি। থাকতেই হবে। এআইএফএফ-কেও বলছি, ভারতের সেরা দশটা শহরে দশটা ফুটবল আকাদেমি হোক। আমরা ১৯৭০-এর পর এশীয় ফুটবলেও আর কল্কে পাই না। এই আকাদেমিগুলো থেকে ফুটবলাররা উঠে আসুক সেরা পরিকাঠামো এবং সুযোগসুবিধে পেয়ে। তারপর হয়ত একদিন আমরা এশীয় স্তরেও সেরা হব বা সেরা হওয়ার দাবি জানাতে পারব। বলা যায় না, একদিন হয়ত আমাদের সবার স্বপ্ন সফল হবে, বিশ্বকাপে খেলার।’ সবচেয়ে বেশি হাততালি পেলেন ভারতীয় ফুটবলে বাইসাইকেল কিক-কে জনপ্রিয় করে তোলার নায়ক, আজও!
ভারতের বালন দি’ওর নয়, অনেকটা ‘সিয়াট ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার’ অনুষ্ঠানের ধাঁচে সাজানো এই ফুটবল সন্ধে। এই সংস্থার জন্ম যাঁর হাতে, বাইচুং ভুটিয়া বলছিলেন, ‘এবারের অনুষ্ঠান স্পেশাল কারণ আইএসএল-ও এবার পুরস্কারের তালিকায়। এফপিএআই-ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল আইএসএল বাস্তবায়িত করতে। যখন আইএসএল নিয়ে কথা শুরু হয়েছিল, কোনও ক্লাবই রাজি ছিল না ফুটবলারদের ছাড়তে। আইএসএল কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে কথা বলি। হয়ত সেই জন্যই নয়, তবে, ক্লাবগুলো যে শেষ পর্যন্ত ফুটবলারদের ছেড়েছিল, তাতে আমাদেরও খানিকটা অবদান থেকেই গিয়েছে। বিশ্বাস করবেন না হয়ত, এক বছরেই আইএসএল যতটা বড় হয়ে গিয়েছে, অভাবনীয়। ইউরোপের প্রায় সব দেশেই আইএসএল এখন আলোচনার বিষয়। আমরা বিশ্বাস করি, ফুটবলারদের সংস্থা যত জোরদার হবে, ফুটবলের উন্নতির দিকেও ততটাই এগোতে পারব আমরা।’
ফিফা ফুটবলার অব দ্য ইয়ার বেছে নেয় বিশ্বের প্রতিটি ফুটবল খেলিয়ে দেশের অধিনায়ক ও কোচদের ভোটে। এফপিএআই কী করে বেছে নেয়? সভাপতি রেনেডি সিং জানালেন, ‘আই লিগের প্রতিটি ক্লাবের প্রত্যেক ফুটবলার ও কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয় তাঁদের পছন্দ। শর্ত থাকে একটাই – নিজের ক্লাবের কাউকে ভোট দিতে পারবে না। ফুটবলার বা কোচ, কাউকেই না। সেই নিয়ম মেনেই ভোট দেয় সবাই। আমরা তারপর গুনে নিই। যে সবচেয়ে বেশি ভোট পায়, সেরা। এভাবেই সেরা ফুটবলার ও কোচকে বেছে নেওয়া হয়েছে, প্রতি বছরই।’
ভারতের বর্ষসেরা ফুটবলার লিংদোর হাতে ট্রফি তুলে দিলেন আতলেতিকো দে মাদ্রিদের মার্কি ফুটবলার এলদের পোস্তিগা ও বাইচুং। নিশ্চিতভাবেই লিংদোর জীবনে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে এই রাত!

পুরস্কার পেলেন যাঁরা -
আই লিগে
ভারতের বর্ষসেরা ফুটবলার – ইউজেনিসন লিংদো
ভক্তদের বিচারে সেরা ফুটবলার – জয়েশ রানা
সেরা উঠতি ফুটবলার – থোংখোসিয়েম হাওকিপ
সেরা কোচ – সন্তোষ কাশ্যপ
সেরা বিদেশি ফুটবলার – সোনি নর্দে

আইএসএল-এ
সেরা কোচ – আন্তোনিও আবাস
সেরা বিদেশি ফুটবলার – ইয়ান হিউম

সেরা ভারতীয় ফুটবলার – সন্দেশ ঝিঙ্গন


Sunday, September 27, 2015

ব্রাজিল, রেয়াল - দুই ক্লাসিকোতেই সম্ভবত নেই মেসি




কাশীনাথ ভট্টাচার্য

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এবং লা লিগায় রেয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে, দুটি ‘ক্লাসিকো’তেই সম্ভবত খেলতে পারছেন না লিওনেল মেসি।
লা লিগায় লাস পামাসের বিরুদ্ধে চোট পেয়ে মেসিকে দশ মিনিটেই বেরিয়ে যেতে হল। পরে পরীক্ষায় জানা গেল, বাঁ হাঁটুর লিগামেন্টে পেশি ছিঁড়েছে মেসির। অন্তত ৭-৮ সপ্তাহ বাইরে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সপঞতাহ বাইরে মানে মাস দুই। অর্থাৎ নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের আগে ফিরতে পারছেন না। সমস্যায় পড়তে হবে বার্সেলোনার পাশাপাশি আর্জেন্তিনাকেও।
২০১৮ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের খেলা শুরু করতে হবে আর্জেন্তিনাকে, অধিনায়ককে ছাড়াই।  ইকুয়েদরের বিরুদ্ধে ৮ অক্টোবর ঘরের মাঠে প্রথম খেলা আর্জেন্তিনার, পারাগে-র বিরুদ্ধে খেলা ১৩ অক্টোবর। দুটিতেই খেলার কোনও সম্ভাবনা নেই মেসির। এমনকি, তার পরের ম্যাচ, যেখানে বিপক্ষে চিরশত্রু ব্রাজিল, খেলতে পারবেন না। ম্যাচ ১৩ নভেম্বর। তার চার দিন পরই কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে খেলা। অর্থাৎ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে প্রথম চার ম্যাচেই নেই মেসি!
লা লিগায় অন্তত পাঁচটি ম্যাচ বাইরে থাকতেই হচ্ছে। সেভিয়া (৭ অক্টোবর), রায়ো ভায়েকানো (১৮ অক্টোবর), এইবার (২৫ অক্টোবর), খেতাফে (১ নভেম্বর), ভিয়ারেয়াল (৮ নভেম্বর)। রেয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে এল ক্লাসিকো আগামী ২২ নভেম্বর। সেই ম্যাচে খেলা নিয়েও সংশয়। কারণ, আট সপ্তাহ বাইরে থেকে মাঠে ফিরেই এল ক্লাসিকোয় খেলার মতো শারীরিক অবস্থায় থাকবেন কি? ২৯ নভেম্বর রেয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে ফিরতে পারেন লা লিগায়। সুবিধে নিশ্চিতভাবেই রেয়াল মাদ্রিদের। মালাগার বিরুদ্ধে ড্র করে আবারও বার্সেলোনাকে এগিয়ে দিলেন যদিও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোরাই, সামনের ৫-৬ ম্যাচে সুদে আসলে শোধ তুলবেন। রোজ রোজ তো আর নিশ্চিত গোলগুলো বাউন্ডুলের মতো হারাবেন না রোনালদোরা! তা ছাড়াও, এল ক্লাসিকোয় যদি মেসি না-খেলেন, সুবিধেজনক অবস্থানে থাকবে রেয়াল মাদ্রিদ, নিঃসন্দেহে।
ইউরোপে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের কাজটাও কঠিন হয়ে গেল। বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২৯ সেপ্টেম্বর বেয়ার লেভারকুসেন, ২০ অক্টোবর ও ৪ নভেম্বর বাতে বোরিসভের বিরুদ্ধে খেলতে হবে, কোনও ম্যাচেই মেসি খেলতে পারবেন না, নিশ্চিত। ২৪ নভেম্বর রোমার বিরুদ্ধেও খেলা কঠিন। শেষ ম্যাচে ফিরবেন তখন। সতীর্থদের কাঁধে এখন বিরাট চাপ তাই, দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার। প্রাথমিক পর্ব থেকে নকআউটে। লুইস সুয়ারেজ আর নেইমারকেই নিতে হবে দায়িত্ব। সুয়ারেজ তো তবু দু-গোল করে লাস পামাসের বিরুদ্ধে জেতালেন। নেইমার অত্যন্ত দৃষ্টিকটুভাবে ওড়ালেন সুয়ারেজের পাওয়া পেনাল্টি। সুয়ারেজ মারতে গেলে হ্যাটট্রিক হতে পারত। কেন নেইমার গেলেন, কারণ নেই। বোঝানোর চে্ষ্টা, যে, মেসি মাঠে না থাকলে নেইমারই সেরা, সুয়ারেজ নয়?
আগামী মাস দুই নেইমার বনাম সুয়ারেজ নিশ্চিতভাবেই দেখতে চাইবে না ইউরোপে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা!

Friday, September 25, 2015

এলদের পোস্তিগা-র নামমাহাত্ম্য!



কলকাতায় প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে এলদের পোস্তিগা


কাশীনাথ ভট্টাচার্য

নাম নিয়ে নয়, নামের উচ্চারণ নিয়ে ‘কনফিউশন’ দূর করে ফেলা যাক, শুরুতেই!
‘Helder Postiga’ যাঁর নাম, কেন তাঁকে ‘এলদের পোস্তিগা’ লিখছি? সহজবোধ্য, সহজপাচ্যও। বোঝার জন্য ‘রকেট সায়েন্টিস্ট’ হওয়ার দরকারও নেই। ভদ্রলোক পর্তুগিজ, ইংরেজ নন। আমরা আবার ইংরেজি আয়নায় উচ্চারণ প্রতিফলিত করাই ‘রাইট অ্যাঙ্গেলে’! তাই ‘হেল্ডার’। অথচ, যাঁরা ‘হেল্ডার’ বলেন তাঁরাই আবার ‘পোস্তিগা’-ও বলেন! যদি ‘হেল্ডার’ বলেন, ‘পোস্টিগা’ বলুন, মানতে অসুবিধে নেই। তখন দুটি শব্দই উচ্চারিত হবে ইংরেজি কায়দায়, বেশ দাঁত চিবিয়ে, মুখ বেঁকিয়ে, ‘হেল্ডার পোস্টিগা’। ঠিক যেমন করে, আমি-ইংরেজি-জানি বোঝাতে, ওই ভয়াবহ ‘অ্যাটলেটিকো ম্যাড্রিড’ বা ‘ডিয়েগো ম্যারাডোনা’ উচ্চারিত হয়, হোক তেমন। সেই ‘ম্যাডনেস’-এর একটা যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব, ‘ইংলিশ উইন্ডো’ খুলে রাখার। কিন্তু, ‘অ্যাটলেটিকো’ বলব, ‘আতলেতিকো’ কিছুতেই বলব না, সঙ্গে আবার ‘মাদ্রিদ’-ও বলব - চলতে পারে না এমন। ‘অ্যাটলেটিকো ম্যাড্রিড’-ই বলুন, না হলে বলুন ‘আতলেতিকো মাদ্রিদ’।
ইংরেজি ‘Helder’ বাংলায় ‘এলদের’ হচ্ছেন, কারণ, শুরুর ওই ‘এইচ’ পর্তুগিজে উচ্চারণহীন। যাঁরা ইংরেজি বোঝেন তাঁদের ভাষায় ‘সাইলেন্ট’। ইংরেজি ‘hour’ উচ্চারণ করতে গিয়ে বাংলায় ‘আওয়ার’ বলা বা লেখা হয়, ‘হাওয়ার’ নিশ্চয়ই নয়, তাই না? সেই ভাবেই ‘হেল্ডার’ হল ‘এল্ডার’। এবার, পর্তুগিজ শব্দ উচ্চারণের রীতি, যেখানে সব অক্ষরই উচ্চারণে নরম বা ‘সফ্ট’। অর্থাৎ, ‘ট’ নয় ‘ত’, ‘ড’ নয় ‘দ’। তাই ‘এল্ডার’ নয়, ‘এলদার’। থুড়ি, ‘এলদের’। ইংরেজির ‘elder’ শব্দটির বাংলা উচ্চারণ আমরা ‘এল্ডার’ করি, কিন্তু পর্তুগিজে ‘ই’ উচ্চারণে ‘এ’, কখনও ‘আ’ নয়। তাই, ‘এলদের’। আর ‘পোস্টিগা’ কখনও নয়, ‘পোস্তিগা’। দয়া করে তাঁর নামের একটা ভাগ ইংরেজিতে ‘হেল্ডার’ আর একটা ভাগ পর্তুগিজে ‘পোস্তিগা’, উচ্চারণ করবেন না, বা লিখবেনও না, প্লিজ! সাধু-চলিত যেমন একসঙ্গে চলে না, ইংরেজি-পর্তুগিজও না। যে কোনও এক দিক মেনে চলাই ঠিক।
বাংলা প্রবাদে দু-নৌকোয় পা দিতে বারণ করে দেওয়া আছে। আমরা ঠিক সেটাই করি, বিদেশি ফুটবলারদের নাম উচ্চারণের ক্ষেত্রে। ক্রিস্তিয়ানো/ক্রিশ্চিয়ানো বলি, আবার ‘রোনাল্ডো’। হাস্যকর! অট্টহাস্যকরও বলাই যায়! ‘রোনাল্ডো’ বলতে চাইলে ‘ক্রিস্টিয়ানো’ বলুন না, কে বারণ করল? এমনকি ‘রোনালদো’ লিখলে তা নিয়ে মাতব্বরদের হাসাহাসিও প্রচলিত বাংলা বাজারে! এই অদ্ভুতুড়ে উচ্চারণ বিভ্রাট আসলে কোনও কিছুই না জেনে হামবড়া ‘ইংরেজ’ হওয়ার চেষ্টা। বাংলা কাগজে বিদেশি ফুটবলারদের নাম সম্পর্কিত উচ্চারণ এবং বানান-বৈচিত্র্য থেকে মুক্তি ঘটানোর একটাই উপায় - হয় পুরোটা ইংরেজি উচ্চারণ চলুক, অথবা, ঠিকঠাক উচ্চারণ। দোআঁশলা কখনও নয়, প্লিজ!

তা ছাড়া, ‘শিক্ষিত’ হতে চাইলে উপায়ও এখন হাতের কাছেই তো। ইন্টারনেট আছে, গুগল-বাবা আছেন। গুগল সার্চ-এ ‘Helder Postiga pronounciation’ লিখে ‘এন্টার’, অনেক কিছু পাবেন। যে কোনও একটি লিংক-এ গিয়ে পর্তুগিজ বা ব্রাজিলীয় পর্তুগিজ উচ্চারণটা শুনে নিন। আর কোনও ‘কনফিউশন’ থাকবে না দেখবেন! আর হ্যাঁ, ‘ট’-এর ওপর বিরাট জোর দিয়ে ‘পোর্টুগিজ’ উচ্চারণটাও বন্ধ যদি করতে পারেন আতলেতিকো কলকাতার কর্তারা, মঞ্চে বসে, একটু বেশিই খুশি হবেন বোধহয় এলদের পোস্তিগাও!

*** যা যা বললেন পোস্তিগা, কলকাতায় প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে ---

* রোনালদো না মেসি?
- দুজনেই গ্রেট। সংখ্যাগুলোও জবরদস্ত। কি্ন্তু বেছে নিতে হলে ক্রিস্তিয়ানোকেই। হার হলেও পর্তুগিজ তো!
* মোরিনিও?
- অন্যতম সেরা কোচ, ওঁর হাতেই উত্থান। গত এক দশক ধরে দেখিয়ে দিয়েছেন কেন ওঁকে অন্যতম সেরা বলা হয়।
* প্রথম মরশুমে গার্সিয়ার পারফরম্যান্সের তুলনা
- হ্যাঁ, চ্যাম্পিয়ন করেছিল দলকে। সফল তো নিশ্চয়ই। এবার আমাদের পালা। দেখা যাক, ওর মতোই ভাল করতে পারি কিনা। চাইব তো আরও ভাল করতে!
* ফিগো না রোনালদো?
- দুজনেই মহান। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে বোধহয় রোনালদো খানিকটা এগিয়ে।
* ছোটবেলার আদর্শ?
- মার্কো ফন বাস্তেন।

Friday, June 19, 2015

কেন একই সময়ে গ্রুপের শেষ ম্যাচগুলো নয়?



কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোর আগে যা অবস্থা এখন ---
গ্রুপ এ
চিলে - ৪, বলিভিয়া - ৪, মেহিকো - ২
গ্রুপ বি
আর্জেন্তিনা ৪, পারাগুয়ে ৪, উরুগুয়ে ৩
গ্রুপ সি
পেরু ৩, ব্রাজিল ৩, ভেনেজুয়েলা ৩, কলম্বিয়া ৩

সমস্যা হল, কোনও গ্রুপেরই শেষ দুটো ম্যাচ একই সময়ে খেলা হবে না।
মেহিকো-ইকুয়েদর আজ রাতে খেলার আড়াই ঘন্টা পর চিলে-বলিভিয়া।
একইভাবে, উরুগুয়ে-পারাগুয়ের আড়াই ঘন্টা পর আর্জেন্তিনা-জামাইকা
এবং, কলম্বিয়া-পেরুর আড়াই ঘন্টা পর ব্রাজিল-ভেনেজুয়েলা।
ঠিক নয়। না-চাইলেও আগের ম্যাচের ফল দেখে পরের ম্যাচের ফল ঠিক করে নেওয়ার সম্ভাবনা। এমন কেন হবে?
পরে অভিযোগ জানানোর চেয়ে একই সময়ে গ্রুপের শেষ ম্যাচগুলো ফেললেই তো ল্যাঠা চুকে যেত, তাই না?
আটাত্তরে আর্জেন্তিনা আর বিরাশিতে জার্মানি এই আগের ম্যাচের ফল দেখে নিজেদের মতো করে গ্রুপে নিজেদের শেষ খেলার ফল ‘ঠিকঠাক’ করে নিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে গিয়েছিল। শাস্তি দিতে পারেনি ফিফা, কিন্তু তারপর থেকে বিশ্বকাপে গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে হয়। কোপার আয়োজকরা ভেবে দেখলে পারেন।
অন্তত, সামনের বার (২০১৯) ব্রাজিলে যেন না হয় এমন... smile emoticon

Friday, June 12, 2015

২২ বছরের ট্রফিখরা কাটবে মেসিদের?

 শনিবার রাত তিনটেয় উঠুন আর্জেন্তিনা-পারাগুয়ে দেখতে। এই বছরে 
প্রথমবার আর্জেন্তিনার জার্সি গায়ে নামছেন লিওনেল মেসি, দেখবেন না?

কাশীনাথ ভট্টাচার্য


আর্জেন্তিনা ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল, ইতালিতে। হেরেছিল জার্মানির কাছে, ০-১, ব্রেহমের পেনাল্টিতে। ঠিক তার পরের বছর, ১৯৯১ সালে, কোপা হয়েছিল চিলে-তে। আর্জেন্তিনা জিতেছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপেরও ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্তিনা। হেরেছিল জার্মানির কাছে, নব্বইয়ের মতোই। সেই একই ০-১ ব্যবধান, মারিও গোটজের গোল। আর, এক বছর পর আবার চিলে-তেই কোপা। আর্জেন্তিনাই কি জিতবে আবার?
লা সেরেনা-তে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সামনে মেসি
আরও মিল চাই? নব্বই বিশ্বকাপ শেষে চাকরি গিয়েছিল কার্লোস বিলার্দোর, এসেছিলেন আলফিও বাসিলে। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর আলেখান্দ্রো সাবেয়ারও চাকরি গিয়েছে। এসেছেন তাতা মার্তিনো। বাসিলের হাত ধরেই আর্জেন্তিনার শেষ সাফল্য এসেছিল পরপর দুবার কোপায় – ১৯৯১ ও ১৯৯৩। পরের এই ২২ বছরে সিনিয়র স্তরে আর কোনও ট্রফি নেই। দুবার কোপার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হারতে হয়েছে, একবার বিশ্বকাপ ফাইনালে। ২২ বছরের খরা কাটাতে পারবেন লিওনেল মেসি?
হ্যাঁ, বার্সেলোনা মানে যদি মেসি হন, আর্জেন্তিনা মানেও তিনিই। বিশ্বকাপের শেষে বহু স্বঘোষিত বিশেষজ্ঞ গালভরা মন্তব্য করেছিলেন, সেরা ফুটবলার হিসেবে তাঁর নির্বাচন নিয়ে। হাস্যকর, কারণ, সহজ সত্য, মেসি না-থাকলে আর্জেন্তিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছন তো দূরের কথা, গ্রুপ পর্যায়ই পেরত না! প্রতিযোগিতায় মোট সাত গোল নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্তিনার। ৪ মেসির, একটা মেসির অ্যাসিস্ট, দি মারিয়ার জন্য। নিজে সম্পূর্ণ সুস্থ নন, দি মারিয়া আর আগুয়েরোও অসুস্থ তালিকায়, এই দল নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছনোর জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট ছিল না মেসিদের।
এবার কোপার আগে মেসি কিন্তু সুস্থ, সম্পূর্ণ। এমনকি, দি মারিয়া, আগুয়েরো, তেভেজ, হিগুয়েন, মাসচেরানো, বানেগা, পাস্তোরে – কারও চোটসংক্রান্ত কোনও সমস্যা নেই। মেসি, মাসচেরানো, তেভেজ খেলেছেন ৬ জুন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে। তেভেজ হেরেছেন আবারও, কিন্তু, আহত হননি শারীরিকভাবে। একমাত্র জাবালেতা সাময়িক ছন্দহীন। রক্ষণে বাকি তিন, গারায়-ওতামেন্দি-রোখোও সুস্থ। তিনকাঠির তলায় রোমেরোর আপাত-বিশ্বস্ত হাত।
ঠিকই বলেছেন মেসি তাই, ‘কোপায় খেলতে যাচ্ছি শারীরিক দিক দিয়ে বিশ্বকাপের চেয়েও ভাল অবস্থায় থেকে। দলের সবাই-ই। বিশ্বকাপে কয়েকজনের চোট ছিল, এবার যা নেই। আর্জেন্তিনার ঘরেও ট্রফি নেই অনেক দিন হল। বিশ্বকাপে সবাই-ই উপভোগ করেছিলাম। কিন্তু, অত কাছে গিয়েও কাপ ধরতে না-পারার পর কোপা জিততে পারলে দুর্দান্ত হবে।’
আর্জেন্তিনা আরও বেশি করে অপেক্ষায় কারণ, ২০১১ সালে কোপা হয়েছিল তাদের দেশেই। ঘরের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল মেসিদের। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-১ থাকার পর টাইব্রেকার এবং একমাত্র তেভেজ মিস করেছিলেন পেনাল্টি। ফলে হার ৪-৫। তেভেজ তারপর আর আর্জেন্তিনা দলে জায়গা পাননি বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত। তাতা মার্তিনো কোচ হয়ে এসে তাঁকে ফিরিয়েছেন এবার। জুভেন্তাসের হয়ে দুরন্ত খেলে দ্বিমুকুট জেতা সত্ত্বেও আর্জেন্তিনার প্রথম দলে তেভেজ সুযোগ পাবেন কিনা, সন্দেহ। দি মারিয়া আর আগুয়েরোর মধ্যে কাউকে বসিয়ে তেভেজকে খেলানোর চেষ্টা কি করবেন মার্তিনো, বার্সেলোনায় যিনি ছিলেন মেসি-মাসচেরানোর কোচ?
গত বছর ১৮ নভেম্বর পর্তুগালের বিরুদ্ধে শেষবার আর্জেন্তিনার হয়ে মাঠে নেমেছিলেন অধিনায়ক। ৪৫ মিনিট খেলেই উঠে গিয়েছিলেন, প্রীতি ম্যাচ বলে। উল্টোদিকের দল থেকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও। সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত আর্জেন্তিনা হেরেছিল ০-১। পরে, নতুন বছরে আরও তিনটি ম্যাচ খেলেছে মার্তিনোর আর্জেন্তিনা। এল সালভাদোর, ইকুয়েদর ও বলিভিয়ার বিরুদ্ধে। মেসি খেলেননি একটিও ম্যাচে, যদিও দল জিতেছে তিনবারই। মার্তিনোর ৮ ম্যাচে ২৩ গোল পক্ষে, ৭ বিপক্ষে। জিতেছেন ৬ ম্যাচে, হার ২। ক্ষুরধার মনে হচ্ছে আর্জেন্তিনাকে।
প্রথম ম্যাচে বিপক্ষ পারাগুয়ে। আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে যাদের ইতিহাস বেশ খারাপ। ১০৩ ম্যাচে জয় মাত্র ১৫, হার ৫৮! কাকতালীয় হলেও সত্যি, আর্জেন্তিনার এখনকার ম্যানেজার মার্তিনোর অধীনেই পারাগুয়ের সেরা পারফরম্যান্স ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গিয়েছিল পারাগুয়ে সে বার। তারপর, ২০১৪ বিশ্বকাপের যোগ্যতার্জন করতে পারেনি। তিনবার কোচ বদলে এখন রামন দিয়াজের হাতে। এই কোপা বড় পরীক্ষা রামনেরও।
ওপরে অধিনায়ক রক সান্তাক্রুজ, গোলে ভিয়ার, সঙ্গে বালবুয়েনা, দুই কাসেরেস-ভাই, ভালদেজ, ওর্তিগোজা – পারাগুয়েকে হেলাফেলা করলে ডুবতে হবে, আর্জেন্তিনা নিশ্চয়ই জানে। ভারতীয় সময় রাত তিনটেয় জেগে উঠে যাঁরা খেলা দেখতে বসবেন, দেখতে চাইবেন মেসির গোল। ২০০৭ কোপায় পেরু আর মেহিকোর বিরুদ্ধে গোলের পর ২০১১-য় মেসির পা থেকে কোনও গোল আসেনি আর। ৯৭ ম্যাচে ৪৫ গোল আপাতত। কোপায় যদি ‘হাফ সেঞ্চুরি’-তে পৌঁছন মেসি, ৪ জুলাই ফাইনাল শেষে তখন তাঁর হাতেই থাকা উচিত ট্রফি!
সম্ভাব্য দল –
আর্জেন্তিনা: রোমেরো; রোনকাগলিয়া, গারায়, ওতামেন্দি, রোখো; মাসচেরানো, বানেগা, পাস্তোরে; দি মারিয়া, আগুয়েরো, মেসি
পারাগুয়ে: ভিয়ার; মার্কোস কাসেরেস, দা সিলভা, বালবুয়েনা, সামুদিও; ভালদেজ, ওর্তিজ, ভিক্তর কাসেরেস, বেনিতেজ, ওর্তিগোজা; সান্তাক্রুজ

Wednesday, June 10, 2015

কোপা আমেরিকা ২০১৫

কোপা আমেরিকা ২০১৫





গ্রুপ এ
চিলে, মেহিকো, ইকুয়েদর, বলিভিয়া

গ্রুপ বি
আর্জেন্তিনা, উরুগুয়ে, পারাগুয়ে, জামাইকা

গ্রুপ সি
ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পেরু, ভেনেজুয়েলা

গ্রুপ পর্যায়ের সূচি

তারিখ            খেলা              ভারতীয় সময়

১২ জুন     চিলে-ইকুয়েদর           ভোর ৫-০০

১৩ জুন     মেহিকো-বলিভিয়া       ভোর ৫-০০

১৩ জুন     উরুগুয়ে-জামাইকা       রাত ১২-৩০

১৩ জুন     আর্জেন্তিনা-পারাগুয়ে     রাত ৩-০০

১৪ জুন     কলম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা   রাত ১২-৩০

১৪ জুন     ব্রাজিল-পেরু                রাত ৩-০০

১৫জুন      ইকুয়েদর-বলিভিয়া       রাত ২-৩০

১৬ জুন     চিলে-মেহিকো            ভোর ৫-০০

১৬ জুন     পারাগুয়ে-জামাইকা      রাত ২-৩০

১৭ জুন     আর্জেন্তিনা-উরুগুয়ে      ভোর ৫-০০

১৮ জুন     ব্রাজিল-কলম্বিয়া         ভোর ৫-৩০

১৯ জুন     পেরু-ভেনেজুয়েলা       ভোর ৫-০০

১৯ জুন     মেহিকো-ইকুয়েদর       রাত ২-৩০

২০ জুন     চিলে-বলিভিয়া           ভোর ৫-০০

২০ জুন     আর্জেন্তিনা-জামাইকা    রাত ৩-০০

২১ জুন     কলম্বিয়া-পেরু            রাত ১২-৩০


২১ জুন     ব্রাজিল-ভেনেজুয়েলা     রাত ৩-০০