Monday, October 12, 2015

২ পেলে-বিতর্ক!

কাশীনাথ ভট্টাচার্য
বাউরুর লিগে ছোট পেলের প্রথম পরিচয়পত্র

পেলের জন্ম কবে?
সবাই তো জানেন, ২৩ অক্টোবর। সবজান্তা উইকিপিডিয়াও তো তাই-ই বলছে। তা হলে হঠাৎ প্রশ্ন কেন?
আসলে, প্রশ্নের উৎস সানতোস (Santos) ক্লাবের জাদুঘরে দেখা একটি ছবি। পেলে সই করেছিলেন সানতোস-এ, বাউরুর লিগে নথিভুক্ত হ্ওয়ায় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল তাঁকে, ১৯৫৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর । সেখানে জুনিয়র ফুটবলার হিসেবে নথিভুক্ত পেলের জন্মতারিখ জ্বলজ্বল করছে – ২১ অক্টোবর, ১৯৪০।
পেলের প্রথম পাসপোর্ট
অতঃপর, সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে পেয়েছিলাম হাতের কাছেই। পেলের আত্মজীবনী ‘Pele, The Autobiography’-র ১৪ পাতায় (Simon & Schuster UK Ltd, 2006 Edition)। পেলে যেখানে দুই সহলেখক ওরলানদো দুয়ার্তে ও আলেক্স বেয়োস-কে জানিয়েছিলেন, ‘গণ্ডগোল তো আমার বার্থ সার্টিফিকেটেই। লেখা আছে ২১ অক্টোবর। কী করে হয়েছিল, জানা নেই। হয়ত ব্রাজিলে আমরা নিখুঁত হতে ততটা আগ্রহী নই বলেই। ব্যাপারটা ওখানেই শেষ নয়। আমার পাসপোর্টে এখনও ওই ২১ অক্টোবরই লেখা আছে। কতবার তারপর পাসপোর্ট পাল্টালাম। প্রতিবারই বলি, জন্মতারিখটা ঠিক করে দিতে। এখনও পাল্টানো যায়নি!’
স্মৃতিধর নই। কিছুই মনে থাকে না প্রায়। যখন পড়েছিলাম, অদ্ভুত লেগেছিল। মনে রাখাও উচিত ছিল। কিন্তু, থাকেনি। পরে সানতোসের জাদুঘরে জন্মতারিখটা দেখে খটকা লাগায় আর একবার বইয়ের পাতা উল্টে স্বস্তি।
দ্বিতীয় খটকার সমাধানও ছিল ওই একই পাতায়। অনেক জায়গায় এখনও এদসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো-কে ‘এদিসন’ ডাকা হয়। পেলে বারবারই বলেন, তিনি ‘এদিসন’ নন, ‘এদসন’। ত্রোস কোরাকোস, পেলের জন্ম যেখানে, সেই গ্রামে পেলে পৌঁছনর কিছু দিন আগেই এসেছিল বিদ্যুৎ। আমরা সবাই জানি টমাস আলভা এডিসনের কথা। গ্রামে বিদ্যুৎ এসে যাওয়ায় এতটাই খুশি হয়েছিলেন পেলের বাবা হোয়াও রামোস দো নাসিমেন্তো ওরফে দোনদিনিও যে, ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘এদসন’। বাড়তি ‘আই’-এর উপস্থিতি ছিল না নামে, পেলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ওই একই পাতায়। কিন্তু, পেলের বিরক্তি এখনও যায়নি। বহু সরকারি নথিতে এখনও ‘আই’ উপস্থিত। ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলারের নিজের কথায়, ‘সরকারি বা ব্যক্তিগত নথিতে এখনও কী করছে ওই বাড়তি ‘আই’-টা, আর ভাল লাগে না লোককে বলতে।’

আমাদের ভারতে যেমন, ব্রাজিলেও বোধহয় সরকারি নথিতে নাম-জন্মতারিখ পাল্টানো প্রচুর ঝামেলা। না হলে, নাম আর জন্মতারিখ নিয়ে এমন সমস্যা থেকেই যায়, তা-ও আবার পেলের, গত প্রায়-পঁচাত্তর বছরে!
 আত্মজীবনীর সেই পাতা

Sunday, October 11, 2015

ঈশ্বরের সই কি নেওয়া যায়, সম্ভব?

কাশীনাথ ভট্টাচার্য



ভোররাতেই বিপত্তি!
ব্রাজিলে প্রথম রাত। সাও পাওলোর হোটেলের ঘরে একা। বাইশ ঘন্টার বিমানযাত্রার পর ঘন্টা দুই গাড়িতে। কোনও রকমে ঘরে ঢুকে স্নান সেরে কিছু খেয়েই ঘুম। মনেই ছিল না মোবাইল-ঘড়িতে অ্যালার্ম দেওয়ার কথা। পরদিন সকাল-সকাল উঠেই যেতে হবে আরেনা কোরিন্থিয়ান্সে, বিশ্বকাপ ‘কভার’ করার জন্য ‘অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড’ তুলতে। মাথায় ওই চিন্তা নিয়েই বিছানায়। আর, ঘুম যখন ভাঙল? মোবাইল-ঘড়ি দেখাল সাড়ে এগারটা!
জেট-ল্যাগ কাটানো ঘুম বলে কথা! কিন্তু, সময় দেখে চোখ কপাল ছাড়িয়ে টাকে! কখন মাঠে যাব, কখন কার্ড তুলব? স্নান-টান সেরে নিলাম চটপট। পাটভাঙা ধুতি হয়, জামা কি বলা যায় ইস্তিরিভাঙা? কে জানে, ভাবার সময়ও নেই। চটপট দেখে নিলাম ফিফার পাঠানো ইমেল-এর প্রিন্ট আর পাসপোর্ট ব্যাগে আছে কিনা। ‘দুগ্গা দুগ্গা’ বলে বেরিয়ে পড়া, ঘর লক করে।
সাততলা থেকে রিসেপশনে নেমে কফি মেশিন দেখে থমকে যাওয়া। ঘুম থেকে উঠে যে কিছুই খাইনি, মনে পড়ল যেন। পাশে ব্রেকফাস্ট-এর ঘর। কিন্তু, বড়-বড় করে লেখার সারকথা, ‘সাড়ে দশটার পর খাবার চাহিয়া লজ্জা দিবেন না’। পর্তুগিজ ভাষায় পণ্ডিত নই। যা লেখা ছিল ইংরেজির ওই ‘টেন’ আর ‘থার্টি’ পড়েই বুঝে নেওয়া। আমার সময় তখন বারটা দশ। ‘খামোখা ভেবে লাভ নেই, চটপট কফিটা খেয়ে ট্যাক্সিতে ওঠ রে, ব্রাজিলে প্রথম সকালটাই মাখিয়ে ফেললি’ মনে মনে নিজেকে অশ্রাব্য কিছু শব্দ বলে কফির জন্য দাঁড়ালাম। ‘চিনি-ছাড়া’ বোঝাতে প্রাণান্ত। নাটক শিখিনি, হাত নেড়ে বোঝানোও সমস্যা। কোনও রকমে বুঝল মিষ্টি মেয়ে। নজর সরাইনি। ঠিক যা ভেবেছিলাম! শেষে চিনির দুটো পাউচ এগোতেই ‘না না’ বলে ফেরত। তৃপ্তির চুমুক ব্রাজিলের বহুকালের শোনা বিখ্যাত কফিতে। দৃষ্টি অবশেষে সামনে এবং আবারও চোখে অবিশ্বাস! বাইরেটা এত কালো কেন?
বুদ্ধিদীপ্ত চোখে চশমা, ছিপছিপে লম্বা, ইংরেজি-জানা এরিক গত রাত থেকে তখনও কাজে। কী ব্যাপার বলুন তো, এত অন্ধকার কেন বাইরে, জিগ্যেস করেই ফেললাম, কফিতে আরও দুটো চুমুক মেরে। ঠোঁট চওড়া হল, ‘রাত তিনটে পঁয়তাল্লিশ বাজে, অন্ধকার তো থাকবেই। আপনাদের ইন্ডিয়ায় কি’ কথা শেষ করতে দিই না এরিককে। মোবাইল বলছে সোয়া বারোটা। মাথা খুলল তখন। সাও পাওলো বিমানবন্দরে নেমে ভেবেছিলাম, ঘড়ির সময়টা বদলে নেব, ভারত থেকে ব্রাজিলে। ভুলে গিয়েছি। সাড়ে আট ঘন্টা এগিয়ে চলছি আমি, ভারতীয় সময়ানুসারে!
অগত্যা কফি শেষ করে, কনকনে ঠাণ্ডায় হোটেলের মূল ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে একটি সিগারেট শেষ করে আবার পাততাড়ি গুটিয়ে সাততলার ঘরে। ইস্তিরিভাঙা জামা-প্যান্ট ছেড়ে কম্বলের তলায়। ঘড়িকে ব্রাজিলের সময়ে পরিবর্তিত করে, সকাল আটটায় অ্যালার্ম দিয়ে, আবারও ঘুমের দেশে।
গৌরচন্দ্রিকা এত বড় হলে রাগ করতেই পারেন, অধিকার আছে চটে যাওয়ার। কিন্তু, নিরুপায়। দিনের শুরুতেই ‘এমন’ বিপত্তি বললে সেই ‘এমন’টা যে ঠিক ‘কেমন’ বুঝিয়ে বলার দায় থাকে। তাই, (পেলের) ধান ভানতে শিবের (থুড়ি, সময় পরিবর্তনে বিপত্তির) গীত!
দিনের শেষে অবশ্য এই শর্মাই গলা ছেড়ে গান গাইতে গাইতে মুণ্ডপাত করছিল ইংরেজি প্রবাদের। কোন হালায় কইসে রে, (বঙ্গানুবাদে) দিনের শুরুটা কেমন হল দেখে সারা দিনটা কেমন যাবে আন্দাজ করা যায়? গলায় ফিফা বিশ্বকাপের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড, পকেটে পেলের প্রেস কনফারেন্স, সঙ্গে আবার ক্যামেরায় পেলের ছবিও! ওভাবে দিন শুরু করে সেই দিনের শেষেই এগুলো সম্ভব?
প্রবাদকেও প্রমাদ বানিয়ে দেওয়া সেই সৃষ্টিছাড়া দিনে আসলে দ্বিতীয়বার ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই সব পায়ে-বলে ঠিকঠাক। ভাষা বিভ্রাট সম্পর্কে সম্যক ধারণা আগের রাতেই হয়ে যাওয়ায় ইংরেজি ছেড়ে বাংলায় ফিরে এসেছিলাম সেই সকাল থেকেই। তাতেই বোধহয় সিদ্ধিলাভ! একা একাই ট্যাক্সি চড়ে আরেনা কোরিন্থিয়ান্স-এ। কার্ড তোলা, পরিচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা, গল্প। কলকাতার কয়েকজন আরও আগে গিয়েছিলেন। যা হয় বিদেশে তারপর। গপ্পোগাছা, কী কী ‘কপি’ পাঠানো হল, চর্চা। আমি তখনও খাতা খুলিনি। তাই কিছু বলার নেই, শুধুই শোনা। লুকোনরও কিছুই নেই যে!
একই অবস্থা ছিল ধীমানেরও। ধীমান সরকার, হিন্দুস্তান টাইমস-এর মস্ত ফুটবল-লিখিয়ে। ব্রাজিল ওর তৃতীয় বিশ্বকাপ। কলকাতা থেকে একসঙ্গেই গিয়েছিলাম, একই ফ্লাইটে। বিয়াল্লিশ দিন পর ফিরবও একসঙ্গেই। কার্ড তুলে গপ্পো করছি, ধীমানই জানতে চাইল, সন্ধেবেলা কী করব। মনে হল, গল্প একটা আছে বোধহয়। ধীমানের বন্ধু আবার ফিফায় ভলেন্টিয়ার। ঘোড়ার মুখের খবর, জারদিম পাউলিস্তা যেতে হবে। পাঁচতারা হোটেল স্কাই। ফুটবল পত্রিকার উদ্বোধন। কাফু থাকছেন। সাও পাওলো তো কাফুরই শহর। আর ছিল সেই ব্রাজিল যাত্রার যা অন্যতম কারণ, পেলে নাকি আসতে পারেন!
সাংবাদিক হিসেবে লুকোচুরির কিছু নিয়ম আছে। চুপি চুপি নয়, বেরিয়ে গেলাম সবাইকে টা-টা করেই। সন্ধে সাতটায় শুরু। সাও পাওলোর মেট্রো চেপে খানিক দূর। তারপর ট্যাক্সি এবং গন্তব্যে পৌঁছন নির্ধারিত সময়ের মিনিট পনের আগে। গলায় ঝোলানো ফিফার কার্ড। বেশ মেজাজেই ঢুকে পড়লাম অনাহূত। সোজা লিফটে এবং রুফটপ। এলাহি কাণ্ড। গান বাজছে, স্টেজ তৈরি। পানপাত্রে চলকে যায় সন্ধে। ব্রাজিলের সুগন্ধিত-সুন্দরীদের প্রথম দেখা, অত সামনে থেকে। সাংবাদিক, ক্যামেরাওম্যান-রাও এমন ডাকসাইটে সুন্দরী!
হঠাৎ গুঞ্জন। কাফু ঢুকলেন। তিনটে বিশ্বকাপ ফাইনাল, পরপর। ঘরে দুটো বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি। ঠায় দাঁড়িয়ে আছি, যদি সুযোগ পাই ভিড়টা কাটলে। পাওয়া গেল আধঘন্টা পর। সবাই গিয়ে ‘সেলফি’ নিচ্ছে, আমরা ছবিই তুললাম। কথা বলতে যেতেই, ‘নো ইংলেস’, ‘নো ইংলেস’। অতঃপর, দুপাশে দু্ই বঙ্গসন্তান, মাঝে কাফু, থাকলাম খানিকক্ষণ। অনেকক্ষণ বললেই ঠিক। নির্ধারিত সময় পার। কাউকে জিগ্যেস করে যে জানব, তিনি আসবেন কখন, উপায় নেই। প্রায় সবাই ‘নো ইংলেস’ দলে। ঘন্টা দেড়েক কেটে গেল। কলকাতার মতো কোনও কোনও খুব পরিচিত সাংবাদিক তো বার তিনেক নিয়ে ফেললেন কাফুর বাইট! একবর্ণও বুঝিনি তো কী, আমরা মাঠ ছেড়ে, মানে কাফুকে ছেড়ে, পালাইনি!
আবার একটা হইচই এবং কাফু হঠাৎ একা। কলকাতা থাকাকালীনই বহু বিজ্ঞ বাঙালির মুখে শুনেছিলাম, পেলেকে নাকি ব্রাজিলে কেউ দেখতেই পারে না! চোখের সামনে দেখলাম, কাফু স্রেফ দাঁড়িয়ে দাঁড়ি্য়ে দেখলেন, ৭৪-বছর বয়সী কেউ কীভাবে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত করছেন, তখনও। আমরাও দৌড়লাম, বাধ্য। নীল স্যুট, সাদা জামা, হলদে-কালো টাই, কুচকুচে কালো চুলের চিরসবুজ সম্রাট ততক্ষণে আসরে!
ক্যামেরার ভিড় ঠেলে গুটি গুটি পায়ে একেবারে সামনে। নিজের হাতেও ক্যামেরা। পরপর ছবি তুলছি, পাগলের মতোই। দেড়হাত দূরে ঈশ্বর! ফুটবল শব্দটাই তো জানা তাঁর সৌজন্যে। খেলতে দেখিনি, প্রশ্নই ছিল না। কলকাতায় সাতাত্তরে যখন এসেছিলেন, বয়স সাড়ে সাত। শুধু বাঁশি শুনেছি-র মতো, কিংবা বিজ্ঞাপন, সির্ফ নাম হি কাফি হ্যায়। ওই নামেই ফুটবল, ওই নামেই ব্রাজিল, ওই নামেই আকর্ষণ। কোথায় ইউটিউব তখন! বয়সে বেড়ে বইতে পড়া, ছবি দেখা। অমোঘ টান!

যা লিখেছিলাম সেই দিন, মিড-ডে কাগজে
পর্তুগিজ পত্রিকার ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হল। তারপর, নানা প্রশ্ন। কাফুর মতো ‘নো ইংলেস’ বলেননি, গোটা তিনেক প্রশ্ন ইরেজিতেই, উত্তরও এল ইংরেজিতে। বাকিগুলো একবর্ণও বুঝিনি। শেষ হতেই ল্যাপটপের দিকে নজর ঘুরে-ঘুরে। ইংরেজিতে লিখছেন নাকি কেউ, তীক্ষ্ণ নজরদারি। ‘এদিকে আয়, পেয়েছি’ ধীমানের স্বর তখন লতা মঙ্গেশকারের চেয়েও মধুর!

মিড-ডে, সেই স্টোরি-র লিংক - http://www.mid-day.com/articles/brazil-has-no-obligation-to-win-the-world-cup-pele/15366192

তিনি চলে যাওয়ার পরই অন্যদিকে তাকানোর ফুরসত। যতক্ষণ ছিলেন, কাফুর দিকেও কেউ ফিরে তাকাননি। ব্রাজিল যে পাঁচবার বিশ্বজয়ী, ওই দুজনের ঘরে সেই পাঁচটা ট্রফির প্রতিরূপ আছে! এমনকি, টানা তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব পেলেরও নেই। তবু, কাফু যেন তৃতীয় শ্রেণীর হিন্দি ছবির পার্শ্বনায়ক। পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, সঙ্কুচিত। গলা উঠছে না। ভাবখানা, ‘উনি থাকতে আমাকে কেন’!
তখন কি আর জানতাম যে, বিশ্বকাপে পরের ৪১ দিনে আর কখনও দেখা পাব না তাঁর? আসবেনই না আর বিশ্বকাপের ধারেকাছে? সাহস করে প্রথম রাতেই সই চেয়ে নিতাম তা হলে, নির্লজ্জ। হাতের এত কাছে, এই কলকাতাতেই তো পাব না তাঁকে, কখনও।

কিন্তু, পরে মনে পড়েছিল, ঈশ্বরের কি সই হয়, নেওয়া যায়?

Thursday, October 8, 2015

নেই মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ, সানচেজ-ভিদাল অনিশ্চিত, তারকাহীন শুরু

চোট পাওয়ায় মেসি খেলতে পারছেন না বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের শুরুর চার ম্যাচে

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

লক্ষ্য এবার রাশিয়া ২০১৮।
কিন্তু, শুরুতেই সমস্যা। সেরা তারকরাই যে নেই!
আর্জেন্তিনা পাচ্ছে না লিওনেল মেসিকে, ব্রাজিলের হয়ে খেলতে পারবেন না নেইমার, কলম্বিয়ায় নেই হামেস রদরিগেজ, উরুগুয়ের জার্সিতে দেখা যাবে না লুইস সুয়ারেজ ও এদিনসন কাভানিকে। কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন চিলেও হয়ত পাবে না আলেক্সি সানচেজ ও আর্তুরো ভিদালকে। শুরুতেই ছন্দপতন!

কনমেবোল থেকে বিশ্বকাপে
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দশ দেশ খেলে প্রাক-বিশ্বকাপে। রাউন্ড রবিন লিগ। প্রতিটি দেশ খেলবে প্রত্যেক দেশের বিরুদ্ধে। বছর দুই পর প্রতিটি দেশের ১৮টি করে ম্যাচ শেষে তালিকায় প্রথম চার দেশ সরাসরি যাবে রাশিয়ায়। পঞ্চম স্থানে থাকা দেশ খেলবে প্লে অফ, ওশিয়ানিয়ার সেরা দেশের বিরুদ্ধে। জিতলে যাবে মূলপর্বে, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে পঞ্চম দল হিসেবে।
কোপায় কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে মারামারি করে বাছাইপর্বের প্রথম দুটি ম্যাচে বাইরে নেইমার

প্রথম রাতে
সেরা ম্যাচ নিঃসন্দেহে চিলে বনাম ব্রাজিল। ২০১৪ বিশ্বকাপে এই ম্যাচ নিয়ে প্রচুর আলোচনা ছিল। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ। বেলো ওরিজোন্তে-তে। যে-মাঠে পরে সেমিফাইনালে নেইমারহীন ব্রাজিল হারবে ১-৭, জার্মানির কাছে। কিন্তু, এস্তাদিও মিনেইরাও-তে সেই দিন নায়ক হয়ে উঠেছিলেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক হুলিও সিজার। দাভিদ লুইজের গোল শোধ করেছিলেন আলেক্সি সানচেজ। পরে টাইব্রেকার। এবং ব্রাজিল জেতে ৩-২। পিনিয়া আর সানচেজের শট আটকে প্রথম দুটি শটে চিলে-কে গোল করতে না দিয়ে নায়ক সিজার।
এবার সানচেজ সম্ভবত নেই। আর্সেনালের হয়ে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে খেলার দিনই চোট পেয়েছিলেন। এই ম্যাচের জন্য সানচেজকে ছাড়তেই চাননি আর্সেন ওয়েঙ্গার। কিন্তু, নিয়মে বাঁধা। ছেড়েছন, আশঙ্কা নিয়ে। ‘জানি না, কী অবস্থায় ফিরবে। কিন্তু, বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ ছাড়তে চাইবে না আলেক্সি, স্বাভাবিক।’ ভিদালকে তো পেপ গারদিওলা খেলাতেই পারছেন না বায়ার্নে, চোটের কারণে।
নির্বাসন এখনও কাটেনি সুয়ারেজের

বলিভিয়ায় খেলতে যাচ্ছে উরুগুয়ে। লা পাজে উরুগুয়ে এখনও জিততে পারেনি। তার ওপর সুয়ারেজ আর কাভানি নেই মানে গোল করার লোকই নেই।
বরঞ্চ ঘরের মাঠে নায়ক হয়ে উঠতে পারেন সের্খিও আগেরো, ইকুয়েদরের বিরুদ্ধে। অধিনায়ক লিওনেল মেসি নেই। বিরাট সুযোগ বুয়েনস আইরেসে তাই আগেরোর সামনে। দুরন্ত ছন্দে আছেন ইপিএল-এ। এক ম্যাচে পাঁচ গোলও করে ফেলেছেন। কার্লোস তেভএজ ততটা ছন্দে নেই আর্জেন্তিনায় ফিরে। কিন্তু গোনজালো ইগুয়াইনও খারাপ খেলছেন না নাপোলিতে। সমস্যা হল, নাপোলির ছন্দ ইগুয়াইন কিছুতেই ফিরে পান না আকাশি-সাদা জার্সিতে। তবে, ইকুয়েদরকে ঘরের মাঠে হারানোর জন্য আগেরো-ইগুয়াইন জুটিই যথেষ্ট হওয়া উচিত। না হলে নিশ্চিতভাবেই সমস্যা বাড়বে কোচ তাতা মার্তিনোর।
ভারতের দর্শক সোনি কিক্স ম্যাচ সরাসরি দেখতে পাবেন, যার মধ্যে চিলে-ব্রাজিল দেখার জন্য ভোর পাঁচটায় নিশ্চিতভাবেই অ্যালার্ম দিয়ে রাখবেন অনেকে!

আজ রাতে

কলম্বিয়া-পেরু (রাত ১-৩০)
বলিভিয়া-উরুগুয়ে (রাত ১-৩০)
ভেনেজুয়েলা-পারাগুয়ে (রাত ২-৩০, সরাসরি সোনি কিক্স)
চিলে-ব্রাজিল (ভোর ৫-০০, সরাসরি সোনি কিক্স)
আর্জেন্তিনা-ইকুয়েদর (ভোর ৫-৩০)

·         ভারতীয় সময়ানুসারে

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির পারফরম্যান্স, একঝলকে

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

বিশ্বকাপে কোন দেশ কতগুলি করে ম্যাচ খেলেছে, অনেকেই জানেন। কিন্তু, বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের হিসেব?
এখানে তুলে ধরা হল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির পারফরম্যান্সের ছোট তালিকা। এই হিসেব ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শেষে। ভারতীয় সময় ৮ অক্টোবর রাত পোহালেই খেলা শুরু। তার আগে চোখ বুলিয়ে নেওয়া, দশ-দেশের পারফরম্যান্সে, একঝলকে।

দেশ
ম্যাচ
জয়
ড্র
হার
স্বপক্ষে গোল
বিপক্ষে গোল
পয়েন্ট
উরুগুয়ে
১৩৬
৬০
৩৮
৩৮
১৮৬
১৪৪
২১৮
পারাগুয়ে
১৩৬
৫৯
২৭
৫০
১৮২
১৬৪
২০৪
কলম্বিয়া
১৩৪
৫০
৪০
৪৪
১৫৯
১৪০
১৯০
বলিভিয়া
১৩২
৩৫
২৭
৭০
১৬১
২৪৬
১৩২
পেরু
১২৯
৩৫
৩১
৬৩
১৩৫
১৮৫
১৩৬
চিলে
১২৮
৫৩
২৭
৪৮
১৯১
১৬৮‌
১৮৬
ইকুয়েদর
১২৫
৪১
৩১
৫৩
১৪৩
১৭৩
১৫৪
ভেনেজুয়েলা
১২২
২৩
১৯
৮০
১০১
২৭৯
৮৮
আর্জেন্তিনা
১১৮
৬৮
২৯
২১
২১৬
১১১
২৩৩
ব্রাজিল
৯২
৫৬
২৫
১১
১৯৯
৫৯
১৯৩

সবচেয়ে বেশি ম্যাচ – উরুগুয়ে, পারাগুয়ে (১৩৬)

সবচেয়ে কম ম্যাচ – ব্রাজিল (৯২)
সবচেয়ে বেশি জয় – আর্জেন্তিনা (৬৮)
সবচেয়ে বেশি হার – ভেনেজুয়েলা (৮০)
সবচেয়ে বেশি গোল দিয়েছে – আর্জেন্তিনা (২১৬)
সবচেয়ে বেশি গোল খেয়েছে – ভেনেজুয়েলা (২৭৯)
জয়ের শতাংশ সবচেয়ে বেশি – ব্রাজিল (৬০.৮৬)

ম্যাচ-প্রতি গোল দিয়েছে সবচেয়ে বেশি – ব্রাজিল (২.১৬)