Friday, June 12, 2015

২২ বছরের ট্রফিখরা কাটবে মেসিদের?

 শনিবার রাত তিনটেয় উঠুন আর্জেন্তিনা-পারাগুয়ে দেখতে। এই বছরে 
প্রথমবার আর্জেন্তিনার জার্সি গায়ে নামছেন লিওনেল মেসি, দেখবেন না?

কাশীনাথ ভট্টাচার্য


আর্জেন্তিনা ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল, ইতালিতে। হেরেছিল জার্মানির কাছে, ০-১, ব্রেহমের পেনাল্টিতে। ঠিক তার পরের বছর, ১৯৯১ সালে, কোপা হয়েছিল চিলে-তে। আর্জেন্তিনা জিতেছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপেরও ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্তিনা। হেরেছিল জার্মানির কাছে, নব্বইয়ের মতোই। সেই একই ০-১ ব্যবধান, মারিও গোটজের গোল। আর, এক বছর পর আবার চিলে-তেই কোপা। আর্জেন্তিনাই কি জিতবে আবার?
লা সেরেনা-তে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সামনে মেসি
আরও মিল চাই? নব্বই বিশ্বকাপ শেষে চাকরি গিয়েছিল কার্লোস বিলার্দোর, এসেছিলেন আলফিও বাসিলে। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর আলেখান্দ্রো সাবেয়ারও চাকরি গিয়েছে। এসেছেন তাতা মার্তিনো। বাসিলের হাত ধরেই আর্জেন্তিনার শেষ সাফল্য এসেছিল পরপর দুবার কোপায় – ১৯৯১ ও ১৯৯৩। পরের এই ২২ বছরে সিনিয়র স্তরে আর কোনও ট্রফি নেই। দুবার কোপার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হারতে হয়েছে, একবার বিশ্বকাপ ফাইনালে। ২২ বছরের খরা কাটাতে পারবেন লিওনেল মেসি?
হ্যাঁ, বার্সেলোনা মানে যদি মেসি হন, আর্জেন্তিনা মানেও তিনিই। বিশ্বকাপের শেষে বহু স্বঘোষিত বিশেষজ্ঞ গালভরা মন্তব্য করেছিলেন, সেরা ফুটবলার হিসেবে তাঁর নির্বাচন নিয়ে। হাস্যকর, কারণ, সহজ সত্য, মেসি না-থাকলে আর্জেন্তিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছন তো দূরের কথা, গ্রুপ পর্যায়ই পেরত না! প্রতিযোগিতায় মোট সাত গোল নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্তিনার। ৪ মেসির, একটা মেসির অ্যাসিস্ট, দি মারিয়ার জন্য। নিজে সম্পূর্ণ সুস্থ নন, দি মারিয়া আর আগুয়েরোও অসুস্থ তালিকায়, এই দল নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছনোর জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট ছিল না মেসিদের।
এবার কোপার আগে মেসি কিন্তু সুস্থ, সম্পূর্ণ। এমনকি, দি মারিয়া, আগুয়েরো, তেভেজ, হিগুয়েন, মাসচেরানো, বানেগা, পাস্তোরে – কারও চোটসংক্রান্ত কোনও সমস্যা নেই। মেসি, মাসচেরানো, তেভেজ খেলেছেন ৬ জুন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে। তেভেজ হেরেছেন আবারও, কিন্তু, আহত হননি শারীরিকভাবে। একমাত্র জাবালেতা সাময়িক ছন্দহীন। রক্ষণে বাকি তিন, গারায়-ওতামেন্দি-রোখোও সুস্থ। তিনকাঠির তলায় রোমেরোর আপাত-বিশ্বস্ত হাত।
ঠিকই বলেছেন মেসি তাই, ‘কোপায় খেলতে যাচ্ছি শারীরিক দিক দিয়ে বিশ্বকাপের চেয়েও ভাল অবস্থায় থেকে। দলের সবাই-ই। বিশ্বকাপে কয়েকজনের চোট ছিল, এবার যা নেই। আর্জেন্তিনার ঘরেও ট্রফি নেই অনেক দিন হল। বিশ্বকাপে সবাই-ই উপভোগ করেছিলাম। কিন্তু, অত কাছে গিয়েও কাপ ধরতে না-পারার পর কোপা জিততে পারলে দুর্দান্ত হবে।’
আর্জেন্তিনা আরও বেশি করে অপেক্ষায় কারণ, ২০১১ সালে কোপা হয়েছিল তাদের দেশেই। ঘরের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল মেসিদের। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-১ থাকার পর টাইব্রেকার এবং একমাত্র তেভেজ মিস করেছিলেন পেনাল্টি। ফলে হার ৪-৫। তেভেজ তারপর আর আর্জেন্তিনা দলে জায়গা পাননি বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত। তাতা মার্তিনো কোচ হয়ে এসে তাঁকে ফিরিয়েছেন এবার। জুভেন্তাসের হয়ে দুরন্ত খেলে দ্বিমুকুট জেতা সত্ত্বেও আর্জেন্তিনার প্রথম দলে তেভেজ সুযোগ পাবেন কিনা, সন্দেহ। দি মারিয়া আর আগুয়েরোর মধ্যে কাউকে বসিয়ে তেভেজকে খেলানোর চেষ্টা কি করবেন মার্তিনো, বার্সেলোনায় যিনি ছিলেন মেসি-মাসচেরানোর কোচ?
গত বছর ১৮ নভেম্বর পর্তুগালের বিরুদ্ধে শেষবার আর্জেন্তিনার হয়ে মাঠে নেমেছিলেন অধিনায়ক। ৪৫ মিনিট খেলেই উঠে গিয়েছিলেন, প্রীতি ম্যাচ বলে। উল্টোদিকের দল থেকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও। সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত আর্জেন্তিনা হেরেছিল ০-১। পরে, নতুন বছরে আরও তিনটি ম্যাচ খেলেছে মার্তিনোর আর্জেন্তিনা। এল সালভাদোর, ইকুয়েদর ও বলিভিয়ার বিরুদ্ধে। মেসি খেলেননি একটিও ম্যাচে, যদিও দল জিতেছে তিনবারই। মার্তিনোর ৮ ম্যাচে ২৩ গোল পক্ষে, ৭ বিপক্ষে। জিতেছেন ৬ ম্যাচে, হার ২। ক্ষুরধার মনে হচ্ছে আর্জেন্তিনাকে।
প্রথম ম্যাচে বিপক্ষ পারাগুয়ে। আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে যাদের ইতিহাস বেশ খারাপ। ১০৩ ম্যাচে জয় মাত্র ১৫, হার ৫৮! কাকতালীয় হলেও সত্যি, আর্জেন্তিনার এখনকার ম্যানেজার মার্তিনোর অধীনেই পারাগুয়ের সেরা পারফরম্যান্স ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গিয়েছিল পারাগুয়ে সে বার। তারপর, ২০১৪ বিশ্বকাপের যোগ্যতার্জন করতে পারেনি। তিনবার কোচ বদলে এখন রামন দিয়াজের হাতে। এই কোপা বড় পরীক্ষা রামনেরও।
ওপরে অধিনায়ক রক সান্তাক্রুজ, গোলে ভিয়ার, সঙ্গে বালবুয়েনা, দুই কাসেরেস-ভাই, ভালদেজ, ওর্তিগোজা – পারাগুয়েকে হেলাফেলা করলে ডুবতে হবে, আর্জেন্তিনা নিশ্চয়ই জানে। ভারতীয় সময় রাত তিনটেয় জেগে উঠে যাঁরা খেলা দেখতে বসবেন, দেখতে চাইবেন মেসির গোল। ২০০৭ কোপায় পেরু আর মেহিকোর বিরুদ্ধে গোলের পর ২০১১-য় মেসির পা থেকে কোনও গোল আসেনি আর। ৯৭ ম্যাচে ৪৫ গোল আপাতত। কোপায় যদি ‘হাফ সেঞ্চুরি’-তে পৌঁছন মেসি, ৪ জুলাই ফাইনাল শেষে তখন তাঁর হাতেই থাকা উচিত ট্রফি!
সম্ভাব্য দল –
আর্জেন্তিনা: রোমেরো; রোনকাগলিয়া, গারায়, ওতামেন্দি, রোখো; মাসচেরানো, বানেগা, পাস্তোরে; দি মারিয়া, আগুয়েরো, মেসি
পারাগুয়ে: ভিয়ার; মার্কোস কাসেরেস, দা সিলভা, বালবুয়েনা, সামুদিও; ভালদেজ, ওর্তিজ, ভিক্তর কাসেরেস, বেনিতেজ, ওর্তিগোজা; সান্তাক্রুজ
Post a Comment