Monday, September 28, 2015

পোস্তিগা-বাইচুংয়ের হাত থেকে সেরার পুরস্কার নিলেন লিংদো




কাশীনাথ ভট্টাচার্য

ভারতের বর্ষসেরা ফুটবলার ইউজেনিসন লিংদো। আই এস এল-এ সেরা ভারতীয় ফুটবলারের পুরস্কার পেলেন সন্দেশ ঝিঙ্গন। ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এফপিএআই) আয়োজিত সপ্তম ‘ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস ২০১৫’ অনুষ্ঠানে, রাজারহাট নিউটাউনে, নভোটেল হোটেলে। আর ফুটবলের কাজে আজীবন নিয়োজিত থাকার স্বীকৃতি পেলেন শ্যাম থাপা। পুরস্কার পেয়ে আবেগমথিত শ্যাম থাপা বললেন, ‘কী ভেবে এফপিএআই আমাকে বেছে নিয়েছে জানি না। হয়ত ফুটবল খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর জুনিয়র ফুটবলারদের তুলে আনার কাজ করেছি, এখনও করে চলেছি, সেই জন্যই। আমার একটাই অনুরোধ আই লিগের প্রতিটি ক্লাব ও আইএসএল-এর প্রতিটি ক্লাবের কাছে – সব ক্লাবে থাকুক জুনিয়র ফুটবলারদের তুলে আনার জন্য আকাদেমি। থাকতেই হবে। এআইএফএফ-কেও বলছি, ভারতের সেরা দশটা শহরে দশটা ফুটবল আকাদেমি হোক। আমরা ১৯৭০-এর পর এশীয় ফুটবলেও আর কল্কে পাই না। এই আকাদেমিগুলো থেকে ফুটবলাররা উঠে আসুক সেরা পরিকাঠামো এবং সুযোগসুবিধে পেয়ে। তারপর হয়ত একদিন আমরা এশীয় স্তরেও সেরা হব বা সেরা হওয়ার দাবি জানাতে পারব। বলা যায় না, একদিন হয়ত আমাদের সবার স্বপ্ন সফল হবে, বিশ্বকাপে খেলার।’ সবচেয়ে বেশি হাততালি পেলেন ভারতীয় ফুটবলে বাইসাইকেল কিক-কে জনপ্রিয় করে তোলার নায়ক, আজও!
ভারতের বালন দি’ওর নয়, অনেকটা ‘সিয়াট ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার’ অনুষ্ঠানের ধাঁচে সাজানো এই ফুটবল সন্ধে। এই সংস্থার জন্ম যাঁর হাতে, বাইচুং ভুটিয়া বলছিলেন, ‘এবারের অনুষ্ঠান স্পেশাল কারণ আইএসএল-ও এবার পুরস্কারের তালিকায়। এফপিএআই-ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল আইএসএল বাস্তবায়িত করতে। যখন আইএসএল নিয়ে কথা শুরু হয়েছিল, কোনও ক্লাবই রাজি ছিল না ফুটবলারদের ছাড়তে। আইএসএল কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে কথা বলি। হয়ত সেই জন্যই নয়, তবে, ক্লাবগুলো যে শেষ পর্যন্ত ফুটবলারদের ছেড়েছিল, তাতে আমাদেরও খানিকটা অবদান থেকেই গিয়েছে। বিশ্বাস করবেন না হয়ত, এক বছরেই আইএসএল যতটা বড় হয়ে গিয়েছে, অভাবনীয়। ইউরোপের প্রায় সব দেশেই আইএসএল এখন আলোচনার বিষয়। আমরা বিশ্বাস করি, ফুটবলারদের সংস্থা যত জোরদার হবে, ফুটবলের উন্নতির দিকেও ততটাই এগোতে পারব আমরা।’
ফিফা ফুটবলার অব দ্য ইয়ার বেছে নেয় বিশ্বের প্রতিটি ফুটবল খেলিয়ে দেশের অধিনায়ক ও কোচদের ভোটে। এফপিএআই কী করে বেছে নেয়? সভাপতি রেনেডি সিং জানালেন, ‘আই লিগের প্রতিটি ক্লাবের প্রত্যেক ফুটবলার ও কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয় তাঁদের পছন্দ। শর্ত থাকে একটাই – নিজের ক্লাবের কাউকে ভোট দিতে পারবে না। ফুটবলার বা কোচ, কাউকেই না। সেই নিয়ম মেনেই ভোট দেয় সবাই। আমরা তারপর গুনে নিই। যে সবচেয়ে বেশি ভোট পায়, সেরা। এভাবেই সেরা ফুটবলার ও কোচকে বেছে নেওয়া হয়েছে, প্রতি বছরই।’
ভারতের বর্ষসেরা ফুটবলার লিংদোর হাতে ট্রফি তুলে দিলেন আতলেতিকো দে মাদ্রিদের মার্কি ফুটবলার এলদের পোস্তিগা ও বাইচুং। নিশ্চিতভাবেই লিংদোর জীবনে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে এই রাত!

পুরস্কার পেলেন যাঁরা -
আই লিগে
ভারতের বর্ষসেরা ফুটবলার – ইউজেনিসন লিংদো
ভক্তদের বিচারে সেরা ফুটবলার – জয়েশ রানা
সেরা উঠতি ফুটবলার – থোংখোসিয়েম হাওকিপ
সেরা কোচ – সন্তোষ কাশ্যপ
সেরা বিদেশি ফুটবলার – সোনি নর্দে

আইএসএল-এ
সেরা কোচ – আন্তোনিও আবাস
সেরা বিদেশি ফুটবলার – ইয়ান হিউম

সেরা ভারতীয় ফুটবলার – সন্দেশ ঝিঙ্গন


Post a Comment