Tuesday, October 27, 2015

ইঞ্জিনীয়ারের ফুটবল প্রেম ও বেস্ট-ফার্গুসন


কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক তাঁবুতে ফারুখ ইঞ্জিনীয়ার, সোমবার সন্ধেয়

 কাশীনাথ ভট্টাচার্য


  • তিনি গলফ খেলেন অ্যালেক্স ফার্গুসনের সঙ্গে!
  • তাঁর পাঁচটা বাড়ি পরে থাকেন ববি চার্লটন!
  • গর্ডন ব্যাঙ্কসের বাড়িতে এক পার্টিতে তাঁর আলাপ হয়েছিল পেলের সঙ্গে, বছর চল্লিশ আগে।
  • জর্জ বেস্টকে তিনি খেলতে দেখেছেন। তাই গড়পড়তা ব্রিটিশদের মতোই তিনিও বিশ্বাস করেন, বেস্ট-ই ছিলেন ‘দ্য বেস্ট’!

সমস্যা একটাই, তিনি মোটেও বিখ্যাত ফুটবলার নন! ফুটবলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মতোই, ‘গ্যালারি হইতে’, অথবা টিভি-তে চো্খ রেখে। তবে, বিখ্যাত তিনি অবশ্যই। ভারতের অন্যতম সফল উইকেটকিপার ও ব্যাটসম্যান, ফারুখ ইঞ্জিনীয়ার।
বয়স তাঁর ৭৭, জন্ম ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৮। প্রথম টেস্ট ১৯৬১ সালে, ৪৬তম ও শেষ টেস্ট ১৯৭৫-এ। আর, ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৬ খেলেছিলেন ল্যাঙ্কাশায়ার-এর হয়ে, কাউন্টি ক্রিকেটে।
তখন ল্যাঙ্কাশায়ারের মতোই রমরমা ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড-এরও। ‘বুসবি বেবস’ ইউরোপ জয় করেছিল ১৯৬৮ সালেই। জর্জ বেস্ট, ববি চার্লটনরা বেনফিকাকে হারিয়ে স্বপ্ন সফল করেছিলেন ব্রিটিশদের। আর ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড দেখিয়েছিল উত্তরণ, মিউনিখে ১৯৫৮-র সেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার (যে-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন মোট ২৩ জন) দশ বছরের মধ্যে ম্যাট বুসবির প্রশিক্ষণে ইউরোপ-সেরা হয়ে। তার দু-বছর আগেই দেশের মাঠে বিশ্বকাপও জিতেছিল ইংল্যান্ড। ইংরেজ ফুটবলের সেই সেরা সময়েই ম্যাঞ্চেস্টারে হাজির হয়ে ফুটবল-ভক্ত তো হতেই হত ইঞ্জিনীয়ারকে!
‘তখন ইংল্যান্ডে প্রধানত খেলত ইংরেজ ফুটবলাররাই। তাই সময়টা ভাল ছিল। এখন দেখুন, প্রিমিয়ার লিগে সব বিদেশি ফুটবলার। ম্যাঞ্চেস্টারে দুটো এত বড় বড় ক্লাব – ইউনাইটেড আর সিটি। কিন্তু, ক’টা ইংরেজ ফুটবলার আছে দু’দলে? আর শুধু ওই দুটো দলেই তো নয়, গোটা প্রিমিয়ার লিগেই এখন খেলছে বিদেশি ফুটবলাররা। তাই তো ইংল্যান্ডেরও এই দুরবস্থা দেশের প্রতিযোগিতাগুলোয়। আর আমার সাধের ম্যাঞ্চেস্টারেরও (ইউনাইটেড)’, বলছিলেন কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক তাঁবুতে, সাংবাদিক সম্মেলনে।
অ্যালেক্স ফার্গুসনের সঙ্গে গলফ খেলার অভিজ্ঞতা?
সাতাত্তরের ‘চনমনে’ বুড়োর দিলখোলা হাসি। ‘আরে বাবা, স্কটিশ তো। স্বভাব যাবে কোথায়? হারলে নিজের ব্যাগ থেকে বের করবে সবচেয় সস্তা বোতলটা, আর জিতলে মদ্যপান করাতে নিয়ে যাবে সবচেয়ে দামী বারে!’
ওল্ড ট্রাফোর্ডেই তো বেস্টকে খেলতে দেখা। চাক্ষুষ সেই অভিজ্ঞতায় এখনও বুঁদ ইঞ্জিনীয়ার। ‘গোল দেবে বলে দূর থেকে শট-ফট নেওয়ার বালাই ছিল না। ডিফেন্ডার আসছে, পাসও দিত না পাশের জনকে। কাটাত, ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে, ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে শেষে গোলকিপারকেও কাটাত, ফাঁকা গোলে ঠেলে দিত বল। ওটাই কনফিডেন্স! এখন তেমন কে আর? তখনই কেউ ছিল না তো এখন! বাঘা বাঘা প্লেয়াররা তখন দলে। তাঁরাই পারত না। ববি চার্লটন আমার পাঁচটা বাড়ি পরে থাকে। তখন বেস্টের সঙ্গেই খেলত ম্যাঞ্চেস্টারে। কিন্তু বেস্ট-ই বেস্ট, তুলনাহীন।’ বোঝা যায়, তিনি বহু বছর ধরেই থাকেন ইংল্যান্ডে, ম্যাঞ্চেস্টারেই। পড়েন বেস্ট-সংক্রান্ত ইংরেজদের উচ্ছ্বাস ও হাহুতাশের গল্পগুলো, নিয়ম করেই!
‘এত বিদেশি খেলে ওখানে, ভাবি একদিন যদি কোনও ভারতীয় ফুটবলারও খেলতে যায় ও-দেশে, কী হবে ভাবুন তো! ওরা কিন্তু খোঁজে। আমাদের দেশ থেকে যদি ততটা প্রতিভাবান কেউ খেলতে যায়, সব দিক দিয়েই উপকৃত হবে ভারতীয় ফুটবলও।’
সে কি আর আগামী বছর পঞ্চাশে সম্ভব? পারে, যদি ইংল্যান্ডে থাকেন এমন কোনও ভারতীয়র সন্তান কখনও ফুটবলকে পেশা করে এগিয়ে যায়। ঠিক যেভাবে ভারতের সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি খবর হয়েছিলেন ১৪ বছরের ইয়ান ধান্দা, লিভারপুলে সই করে।
কিন্তু, লক্ষ্মীপুজোর সন্ধেয় বেশ ঘরোয়া পরিবেশে ইঞ্জিনীয়ারের ফুটবল আলোচনা মনে থেকে যাবে অনেক দিন!
Post a Comment